যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহান আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ডিজে পার্টি বন্ধে পূজামণ্ডপ কমিটির সহযোগিতা চেয়েছেন এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
সিসি ক্যামেরা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ
পুলিশ সুপার রওনক জাহান পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অর্থ সংকটে যদি কোনো মণ্ডপ কমিটি সিসি ক্যামেরা কিনতে না পারে, তবে ভাড়া করে হলেও সিসি ক্যামেরা নিশ্চিত করতে হবে। এটিও সম্ভব না হলে পূজা পরিষদ বা সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে হলেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
যানজট নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যশোর শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি, জেলার অন্যান্য আটটি থানাতেও সীমিত পরিসরে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে। পুলিশ সুপার এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ডিজে পার্টিতে নিষেধাজ্ঞা ও বিসর্জনের সময়সীমা
পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, “ডিজে পার্টি পূজার উৎসবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” তিনি মন্দির কমিটিগুলোকে নিজ উদ্যোগে ডিজে পার্টি বন্ধের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং এর পরিবর্তে ধর্মীয় সংগীতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন।
প্রতিমা বিসর্জনের বিষয়ে সরকার নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সাধারণ ক্ষেত্রে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ কারণে এই সময়ের মধ্যে বিসর্জন সম্ভব না হলে, কোনো অবস্থাতেই রাত ১০টা পার করা যাবে না।
মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
পুলিশ সুপার মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়ে কঠোরতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক রুখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে যেন তা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচার না করা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উদ্যোগ
এ বছর যশোরে ৭০৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৩টি বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২টি মণ্ডপ রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পূজার সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব নির্মল কুমার বিট সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের জন্য তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে সুরক্ষা সেল গঠন করা হবে, যা যেকোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
এই বছরের পূজা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

