ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি ট্রাক জব্দ করেছে বিএসএফ ও ভারতীয় কাস্টমস। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়।
ভারত সরকারের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং কাস্টমস যৌথভাবে আটককৃত ট্রাকগুলোর মালামাল খতিয়ে দেখছে। ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, এসব পণ্যের মালিক বেনাপোলের বিতর্কিত আমদানিকারক হাসানুজ্জামান হাসান। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান ট্রেডার্স এবং ভারতের মন্ডল গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আমদানি-রপ্তানিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ভারতীয় কাগজপত্রে ১৬টি চালানকে মোটরসাইকেল পার্টস হিসেবে দেখানো হলেও ট্রাকগুলোতে ছিল ঔষধ, জিলেট ব্লেড, ট্রিমার, শাড়ি, ফেব্রিক্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, মূর্তি, হাতঘড়ি, চাদর, তালা, থ্রি-পিস, জুতা এবং সেলুন সামগ্রী। জব্দকৃত পণ্যের সঙ্গে কোনো বৈধ নথি ছিল না।
মন্ডল গ্রুপের মালিক কুতুব উদ্দীন মন্ডলের ৫টি রপ্তানি লাইসেন্সের মধ্যে মাত্র একটি বৈধ, বাকি চারটি ভুয়া। মেসার্স রুহানী এন্টারপ্রাইজ, সোহানী এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ ও তাহানি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রপ্তানি হয়ে আসছে।
এছাড়া, বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট ওমর এন্ড সন্স-এর লাইসেন্স ব্যবহার করে এই চালান ছাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এজেন্টের মালিক ইউনুস মিয়া বলেছেন, তার আত্মীয় জাহিদ হোসেন লাইসেন্স ব্যবহার করেন। জাহিদ জানান, ব্যবসায়ী আজিম উদ্দীন লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকেন। আজিম স্বীকার করেছেন যে, তিনি হাসানুজ্জামানের পণ্য ছাড় করেন, তবে আটক চালান তার ছিল না।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সীমান্তে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এতে কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারও জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের আইআরএম কর্মকর্তা মনিউর রহমান বলেন, “শুনেছি ভারতে একটি বড় চালান আটক হয়েছে। বিস্তারিত জানি না।”
ডিসি রাফেজা খাতুন বলেন, “এখনও বিস্তারিত হাতে পাইনি। প্রয়োজন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, “বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই।”?

