যশোর শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ককটেল হামলায় তিন ভাই আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন—জাহাঙ্গীর হোসেনের তিন ভাই রাজা, বাদশা ও রিপন। তারা সবাই স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আহতদের পরিবারের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও প্রতিহিংসামূলক।
জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ১৯ জুলাই থেকে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন জমাদ্দারপাড়ার আলতু মিয়ার ছেলে অনি, বাস টার্মিনাল এলাকার হাকিমের ছেলে সুজন হোসেন, ইসহাক সড়কের হাকিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম এবং ছোটনের মোড় এলাকার বাবুর ছেলে সাকিব। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তার অভিযোগ, জিডি করার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্তরা সিরাজুলের বাড়িতে একত্রিত হয়ে, রাসেল, ফয়সাল, আকাশসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে জাহাঙ্গীরের বাড়ির দিকে একের পর এক ককটেল ছোড়ে। এতে তার তিন ভাই আহত হন এবং এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। জাহাঙ্গীরের দাবি, হামলার পেছনে স্থানীয় এক বাস মালিক রাজীবের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কোতোয়ালি থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত বলেন, “কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে। পাশাপাশি জিডির বিষয়টিও তদন্তাধীন।”
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অনির নেতৃত্বে জমাদ্দারপাড়ায় একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও নানাবিধ অপরাধে জড়িত। তারা দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

