যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ইয়াসমিন আক্তার মাহী (২১) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ছিলেন এক উদীয়মান টিকটক নির্মাতা। রবিবার (২১ জুলাই) মধ্যরাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মাহীর গ্রামের বাড়ি বেনাপোল উপজেলার সাদীপুরে।
মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে মাহী তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে একটি ওড়না ঝুলতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “ভালোবাসা বলতে কিছুই হয় না, শুধুই ব্যর্থতা।” ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার shortly পরেই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে মাহীর কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ২২ জুলাই সকালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় মাহী সম্প্রতি বেশ কিছু জনপ্রিয় টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পান। তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে উঠেছিল।
মাহীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার একজন যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পারিবারিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এমনকি কিছুদিন আগেই তার অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, “মাহীর মৃত্যু আপাতত আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, মাহীর মৃত্যু আমাদের সমাজে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক ও পারিবারিক চাপ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে।

