“রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হলেও দেশের মানুষ এখনো তাদের ভোটাধিকার ফিরে পায়নি”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও মৌন মিছিল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তির চক্রান্তে দেশবাসী আজও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় আবারও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করার ফাঁদ পাতা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, বিভেদের রাজনীতি কেমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে—জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতেই বিএনপি লড়াই চালিয়ে যাবে—বিদেশি কারও নয়, আমাদের দায়বদ্ধতা কেবল জনগণের প্রতি।”
জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সম্পর্কে কটূক্তি প্রসঙ্গে অমিত বলেন, “এসব মন্তব্যে দেশবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তবে বিএনপি প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজিত না হয়ে সংযমের পরিচয় দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই এসব অপমানের জবাব দেব।”
দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদরা আমাদের প্রেরণা। তাদের আত্মত্যাগ দলের নয়, সমগ্র জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
দোয়া মাহফিল শেষে কালো ব্যাজ ও কালো পতাকা ধারণ করে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বঙ্গবাজার, চৌরাস্তা মোড়, আর এন রোড হয়ে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারী নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

