চুয়াডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. আকবর আলী শেখ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রথম মামলাটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—স্বাধীন আলী (৩৭) ও আশিকুর রহমান আশিক ওরফে বাদশা (২৭)। স্বাধীন আলী আলমডাঙ্গার বামানগর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে এবং বর্তমানে জেহালা ইউনিয়নের ক্লিনিক পাড়ায় বসবাস করেন। অপর আসামি আশিক চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ফার্মপাড়ার বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ মে রাতে জমি নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা কামাল হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্ত্রী সেলিনা আক্তার পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ কামালকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
১১ মে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত বুধবার রায় দেন। এ মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের বাবলু রহমান হত্যা সংক্রান্ত। ২০২২ সালের ১৬ জুন দুপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী চায়না খাতুন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে জমির উদ্দিনের (৪৮) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তিনি একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মণ্ডলের ছেলে।
আদালত মামলাটির ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জমির উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।”

