কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁর মৃত্যুর পর সারাদেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
বুধবার সকাল থেকেই বাবনপুর গ্রামে মানুষের ঢল নামে। আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল। এ সময় তাঁরা শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবু সাঈদের কবরটি লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে সাজানো হয়েছে। পাশে ‘শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে তাঁর স্মৃতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীও আয়োজন করা হয়। পুরো গ্রামজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ব্যানারে তাঁকে স্মরণ করা হয়।
এ উপলক্ষে বেরোবি উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, “আবু সাঈদের প্রতিবাদী ভূমিকা ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকযাত্রা, আলোচনা সভা, ‘আবু সাঈদ তোরণ’ ও ‘আবু সাঈদ মিউজিয়াম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, “আবু সাঈদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করি, তাহলেই তাঁর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।”
কবর জিয়ারতে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “এক বছর হয়ে গেল আমার ছেলের মৃত্যু। আমি বিচার চাই—আমার ছেলেসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার না করে কোনো নির্বাচন নয়। সেই সঙ্গে রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন চাই।”
উল্লেখ্য, শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একটি ছাত্রের প্রাণহানি নয়, বরং তা গোটা দেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন প্রেরণা এনে দিয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারা এখনো বয়ে চলেছে নানা দাবিতে।

