দুইদিনে ভৈরব নদে দুইজনের মৃত্যু, আতঙ্কে শানতলার মানুষ

আরো পড়ুন

যশোরে  শানতলা এলাকায় ভৈরব নদে দুইদিনের ব্যবধানে এক শিশু ও এক প্রাক্তন সেনা সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। একদিকে রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে নদীতে বিপজ্জনকভাবে ছড়িয়ে পড়া কচুরিপানাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।

প্রথম ঘটনা ঘটে গত ১২ জুলাই (শনিবার) দুপুরে। শানতলা গ্রামের উজির আলীর ১০ বছরের ছেলে জিহাদ হোসেন তার বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে যায়। স্থানীয় একটি ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পানিতে নামে শিশুরা। অন্যরা উঠে আসলেও জিহাদ নিখোঁজ হয়ে যায়। বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। টানা অভিযানের পর ১৩ জুলাই সকালে ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু জিহাদের নিথর দেহ।

এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ১৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে একই এলাকায় আবারও প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। নিহত মধুসূদন ছিলেন শানতলা গ্রামের বাসিন্দা ও একজন সাবেক সেনা সদস্য। সেদিন দুপুরে নিজ বাড়ির পাশের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পা পিছলে পানিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে একই নদীতে দুইজনের মৃত্যুতে গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বলছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা হলেও, অনেকেই মনে করছেন এখানে কোনো গোপন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে। নদীর তীরে বসবাসকারী অনেকের দাবি, নদীতে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।

শানতলা গ্রামের বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, “নদীতে এখন এত কচুরিপানা জমেছে যে অনেক জায়গায় তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়। কেউ যদি একবার নিচে পড়ে, কচুরিপানার ফাঁকে আটকে গেলে আর উঠে আসা কঠিন।”

এলাকাবাসীর মতে, ভৈরব নদে পানি ও কচুরিপানার চাপ বেড়ে গেছে। ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নদীতে নামা হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। তারা দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের বারোবাজারেও। মাসলিয়া গ্রামে ৮ বছর বয়সী শিশু নাঈম হোসেন গত সোমবার নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

সচেতন মহলের মতে, নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নিয়মিত নদী তদারকি ছাড়া এমন মর্মান্তিক ঘটনা থামানো কঠিন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ