রাশিয়ায় যুদ্ধের মঞ্চে প্রলোভনে পা—ড্রিম হোম ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা

আরো পড়ুন

ভাল চাকরি ও মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে যশোরের বড় মেঘলার যুবক জাফর হোসেনকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নামানোর অভিযোগে ঢাকার ড্রিম হোম ট্রাভেলসের চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—নড়াইলের কালিয়ার কলাবাড়িয়া গ্রামের এস এম আবুল হাসান (৫১), প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার ফারিহা জেরিন তামান্না (৩২) দক্ষিণখান, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার আলমগীর হোসাইন ওরফে দেলোয়ার (৪৫), এবং ঢাকার নয়া পল্টনের শফিকুর রহমান (৫০)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে সিআইডি যশোর জোনকে।

ভুক্তভোগী জাফর হোসেন বর্তমানে ইউক্রেনের ডোনেস্ক শহরের এক রাশিয়ান সেনা ক্যাম্পের বাংকারে অবস্থান করছেন। তার ভাই বজলুর রহমান আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ড্রিম হোম ট্রাভেলসের মাধ্যমে ২০২৪ সালে সাইপ্রাসে পাঠানোর নামে জাফরের কাছ থেকে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরবর্তীতে সাইপ্রাসে ভিসা বন্ধ দেখিয়ে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন আসামিরা। তারা জানায়, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রাশিয়া যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ওমরাহ হজের জন্য সৌদি আরব পাঠিয়ে পরে রাশিয়ায় ভিসা করে পাঠানো হবে।

ওই পরিকল্পনায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাফরসহ ১০ জনকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। দুই মাস পর ২২ ডিসেম্বর তাদের রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, চাকরির বদলে রাশিয়ার সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং যুদ্ধের জন্য ২০ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

পরে জানা যায়, অভিযুক্তরা রাশিয়া সরকারের সঙ্গে জনপ্রতি ১৪ হাজার মার্কিন ডলারে যুদ্ধের জন্য এক বছরের চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ থেকে একইভাবে পাঠানো অনেককেই যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হয়েছে; কেউ কেউ নিহতও হয়েছেন।

জাফর যুদ্ধ করতে না চাইলেও খাবার বন্ধসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে ডোনেস্কে এক ড্রোন হামলায় জাফরের শরীরে স্প্লিন্টার ঢুকে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসা শেষে আবারও তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। জাফরের সঙ্গী সোহান মিয়া ২০ জুন এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।

জাফরের দেশে ফেরার জন্য ভাই বজলুর রহমান আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জাফরের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ