রূপদিয়া স্টেশনে না থামায় মহাপরিচালকের প্রতি স্থানীয়দের ক্ষোভ

আরো পড়ুন

ঢাকা-বেনাপোল রুটে সরকারি সফরে এসেও যশোরের ঐতিহাসিক রূপদিয়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি না করায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার দুপুরে স্টেশনে ফুল হাতে অপেক্ষা করছিলেন হাজারো মানুষ—মহাপরিচালককে শুভেচ্ছা জানানো ও নিয়মিত ট্রেন স্টপেজের দাবি জানাতে। কিন্তু বিকেলে মহাপরিচালকের গাড়িবহর স্টেশনের পাশ দিয়ে চলে গেলে হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি, অথচ তিনি এক মিনিটের জন্যও থামেননি!” রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিচালক শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আন্তঃনগর রূপসীবাংলা ট্রেনে ঢাকার কমলাপুর থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সফরের নির্ধারিত সূচিতে যশোর, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া ও নোয়াপাড়া স্টেশনে যাত্রাবিরতির কথা থাকলেও রূপদিয়া স্টেশনে কোনো ধরনের থামা বা পরিদর্শন হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৮৮২-৮৪ সালে বনগাঁ-যশোর-খুলনা ব্রডগেজ লাইনের অংশ হিসেবে স্থাপিত রূপদিয়া স্টেশনটি একসময় গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ ছিল। বর্তমানে এখানে দিনে মাত্র একটি অনির্ধারিত কমিউটার ট্রেন থামে। গত বছরের ৩০ মার্চ ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত উচ্চগতির পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা জাগে—ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চলাচল আবার চালু হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, রূপদিয়ায় ট্রেন থামালে যশোর সদরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ উপকৃত হবে। এতে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের সুফল আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

ঘটনার দিন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মিঠু, আব্দুর রাজ্জাক, রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আরিফুর রহমানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রূপদিয়া বাজার বণিক সমিতির নেতারা।

স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—“রূপদিয়া রেলস্টেশনে নিয়মিত ট্রেন থামাতে হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ