বইপাঠকে অভ্যাসে পরিণত করার প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা যশোরের জনপ্রিয় সাহিত্য সংগঠন ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০ জুন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় যশোর শহরের স্টেডিয়াম গ্যালারিতে সংগঠনটির নতুন অফিস উদ্বোধন ও সাহিত্য পাঠচক্র ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় রূপ নেয় সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ্জাহান কবীর। সঞ্চালনায় ছিলেন পাঠচক্রবন্ধু লিমা খাতুন ও মুরাদ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ যশোরের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শামীমা আখতার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- বিদ্যুৎ কুমার কুন্ডু, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
- আজিজুর রহমান, প্রভাষক
- শাহাদাৎ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ
- আহসান মোহাম্মদ ইকরামুল কবীর, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
- শহিদুল ইসলাম, এজিএম, রূপালী ব্যাংক
- সেলিম রেজা, ম্যানেজার, অগ্রণী ব্যাংক
- এলিন সাঈদ-উর-রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা
- সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ রায় ও জাহিদ হাসান
- কবি মামুন আজাদ, উদ্যোক্তা শাহেদ চৌধুরী প্রমুখ।
প্রথম পর্বে অতিথিদের অংশগ্রহণে লাল ফিতা কেটে নতুন অফিসের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ছিল মিষ্টিমুখ পর্ব।
দ্বিতীয় পর্বে সাহিত্য পাঠচক্র ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উচ্চতর অধ্যয়ন সভার পরিচালক অভিজিৎ কুমার তরফদার স্বাগত বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মুস্তাহিদ হাসান শাকিল। নতুন সদস্যদের হাতে পঠিত বই, শুভেচ্ছা স্মারক, নোটপ্যাড ও কলম তুলে দেওয়া হয়।
প্রাক্তন সদস্য হরিদাস বিশ্বাস ও নুরুন্নবী এবং নতুন সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস ইলা, আফরিন নূর ও আবু তাহের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কবি মামুন আজাদ রুবাই পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে কবিতা, সঙ্গীত ও অতিথি আলোচনায় ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, “বইপাঠের এই উদ্যোগ তরুণদের সৃজনশীলতা ও মানবিকতা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখবে। শুধু পড়া নয়, সমাজ ও মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।”
সমাপনী বক্তব্যে শাহ্জাহান কবীর বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি—পাঠই শক্তি, পাঠই মুক্তি। এই সংগঠন কেবল নিজেরাই পড়ে না, অন্যদেরও পাঠে উৎসাহিত করে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যশোরে আত্মপ্রকাশ করে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’। পরের দিন থেকে শুরু হয় একবছর মেয়াদি প্রথম পাঠচক্র। এরপর সফলভাবে আয়োজন করা হয় ২০২২ ও ২০২৪-এর পাঠচক্র।
সংগঠনটি ‘বইয়ের বন্ধু’, ‘উচ্চতর অধ্যয়ন সভা’, ‘গ্রামের শিশুদের বই উপহার’, ‘জনপাঠাভ্যাস উদ্যোগ’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। ‘অধ্যয়ন সভা’ নামে দেশের প্রথম শিশু-কিশোর পাঠচক্রও সফলভাবে পরিচালনা করেছে তারা।
নিজেরাই পড়ে এবং সবাইকে পড়ায়—এই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ পরিবার।

