যশোরে করোনার নতুন থাবা, স্বাস্থ্য বিভাগ নিস্ক্রিয়

আরো পড়ুন

যশোরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস। গত দুই দিনে দুইজনের মৃত্যু ও আরও তিনজনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন। তবে জেলার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা তৈরিতে স্বাস্থ্য বিভাগও নীরব।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র পাঁচজন আক্রান্ত শনাক্ত হলেও মারা গেছেন দুজন। আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় উপসর্গ দেখা দিলে অনেকে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করাচ্ছেন। তবে গুরুতর না হলে তারা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার কোনো তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। ফলে আক্রান্তদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শনাক্ত ব্যক্তির তথ্য ভাগাভাগি করছে না। এতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষাকে বানিয়ে ফেলেছে মুনাফার উৎস।

সর্বশেষ বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মণিরামপুরের মাহমুদকাটি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৪৫) করোনায় মারা যান। তিনি পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শ্বাসকষ্ট ও কিডনি জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়ে অবস্থা অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে র‌্যাপিড টেস্টে করোনা শনাক্ত হলেও রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে একই হাসপাতালে মারা যান শেখ আমির হোসেন (৬৮) নামের আরেক করোনা রোগী।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, যশোরে করোনা পরীক্ষার জন্য কিট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করতেও দেয়া হয়নি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুইটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিটি র‌্যাপিড পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে নিচ্ছে ৭০০ টাকা, যেখানে পূর্বের সরকার নির্ধারিত ছিল ৩০০ টাকা। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত র‌্যাপিড কিট থাকলেও প্রচারের অভাবে তা অনেকেই জানেন না। বিষয়টি ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

একসময় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সাংবাদিকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিয়মিত করোনা ও ডেঙ্গুর তথ্য দিত। কিন্তু বর্তমানে তথ্য জানতে চাইলেও সেখানে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না, যা সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, খুব শিগগিরই যশোরে সরকারি ব্যবস্থায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হবে। আপাতত যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ২২০টি র‌্যাপিড কিট দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জাগো,।  মেহেদী 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ