সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগে যশোরে ইউনিয়ন পরিষদে তালা দিল জামায়াত

আরো পড়ুন

সরকারি বরাদ্দের নির্ধারিত অংশ না পাওয়ার অভিযোগে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।

রোববার (১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নেঙ্গুড়াহাট বাজার থেকে জামায়াতের শতাধিক নেতা-কর্মী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করেন। এরপর চেয়ারম্যানের কক্ষ, সচিবের কক্ষ এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। তবে এ সময় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার এবং সচিব বিল্লাল হোসেন কেউই অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান এবং সহকারী সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও ভাতাসমূহ তার নিজ দলীয় লোকদের মাঝে বণ্টন করছেন। অথচ পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্নার মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হয়েছিল—যার আওতায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের জন্য বরাদ্দের ২৫ শতাংশ নির্ধারিত ছিল।

তারা অভিযোগ করেন, সেই সমঝোতা মানা হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফ, ভিজিডি, টিসিবি পণ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, টিআর-কাবিখা ও বিভিন্ন ভাতা প্রকল্পে জামায়াতপন্থী লোকজনকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ইউপি সচিব বিল্লাল হোসেনও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সমঝোতা অনুসারে কাজ হচ্ছিল, তবে সম্প্রতি কিছু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, বরাদ্দের শতকরা ২৫ ভাগ জামায়াতের নেতাদের দেওয়া হলেও তারা এখন আরও বেশি দাবি করছেন। পরিষদের ফটকে তালা দেওয়ার বিষয়টি ইউএনও-কে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় পরিষদে দায়িত্ব পালনরত গ্রাম পুলিশ আব্দুল আলিম, বদরুজ্জামান বেবি ও কোমল দাস এবং উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান নিরাপত্তার স্বার্থে ভবন ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ