যশোর শহরের শংকরপুরে ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত পাঁচ বছরের শিশু খাদিজা মারা গেছে। সোমবার দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পুরো এলাকায়। বিস্ফোরণের পর থেকে এলাকায় বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
নিহত খাদিজা শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত সুজনের মেয়ে। সকাল ৮টার দিকে ছোটনের মোড়ের পাশের খেলার মাঠে পড়ে থাকা একটি বস্তু টেনিস বল ভেবে কুড়িয়ে আনে সে। পরে সেটি নিয়ে খেলতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে খাদিজা ছাড়াও ছয় বছরের সজিব ও তিন বছরের আয়েশা আহত হয়। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, খাদিজার মাথা ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত লাগে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে বিস্ফোরণটি ঘরের ভেতরে না বাইরে ঘটেছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, বিস্ফোরণ সকাল আটটার দিকে ঘরের মধ্যেই ঘটে। ওই সূত্রের মতে, খাদিজার মা দ্বিতীয় স্বামী শাহাদাতের সঙ্গে বসবাস করতেন। শাহাদাত পেশায় রিকশাচালক হলেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সন্ত্রাসী মুসার ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিস্ফোরিত ককটেলগুলো সে ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিল এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, “গুরুতর আহত শিশুটি ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরিত ককটেলটি মাঠে এলো কীভাবে, তা জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে,

