তীব্র দাবদাহে পুড়ছে যশোর, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ

আরো পড়ুন

যশোরজুড়ে প্রচণ্ড দাবদাহে নাকাল সাধারণ মানুষ। গত তিন দিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। যদিও গতকাল তা কিছুটা কমে ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, তবুও গরমের তীব্রতা থেকে মুক্তি মেলেনি। সূর্যের তেজে বাইরে যাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি বিদ্যুতের ঘনঘটায় ঘরে থাকাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। কর্মক্ষম মানুষজনের কাজেও পড়েছে প্রভাব।

এই অতিপ্রচণ্ড গরমের প্রভাবে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ডায়রিয়া ও অন্যান্য গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগীরা। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে কয়েকগুণ।

সংক্রামক (ডায়রিয়া) ওয়ার্ডে মাত্র ৫টি বেড থাকলেও সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৩৭ জন। বেড না পেয়ে অনেকেই বারান্দা ও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নারী, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডেও একই অবস্থা। শিশু ওয়ার্ডে ২৬টি বেডের বিপরীতে ৮৫ জন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩৫ বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ১০০ জন রোগী। কার্ডিয়াক, মেডিসিনসহ ১৩টি ওয়ার্ডে সর্বমোট ২৭৮টি বেড থাকলেও বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৭১ জন।

বহির্বিভাগ থেকেও প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক রোগী। গতকাল একদিনেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৮১৮ জন।

শিশু ওয়ার্ডের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আফসার আলী জানান, তীব্র গরমের কারণে শিশুদের নানা অসুস্থতা বেড়েছে। গরম ও রোদের প্রভাব এড়াতে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৈশাখের এই সময়ে এমন তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও বাতাসের অভাবে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। চলতি মে মাসে তাপমাত্রা আরও ১-২ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ এপ্রিল যশোরেই রেকর্ড হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা—৪৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ