যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের বনোগ্রামের শিমুল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইটভাটার শ্রমিক থেকে কয়েক বছরে লাখ টাকার মালিক হয়ে ওঠেন তিনি।
বর্তমানে শিমুল তার মা রেহেনা বেগমকে নিয়ে নানা গোলাম রসুলের বাড়িতে বসবাস করছেন। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ‘প্রবাসীদের আড্ডা’, ‘লাভার বয়’ ও ‘UME’ নামের একাধিক ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে থাকা নারী-পুরুষদের অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এসব পেইজের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যে, ধুরন্ধর স্বভাবের শিমুল মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকসেবনে জড়ান এবং দেশে ফিরে কৌশলে তা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রেমজাল, একাধিক বিয়ে ও প্রতারণার কাহিনী এলাকাজুড়ে আলোচিত। জানা গেছে, তিনি এখন পর্যন্ত ৬টি বিয়ে করেছেন, যেগুলোর বেশিরভাগই বিচ্ছেদে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের ১১ বছরের ছেলে মুস্তাকিন বর্তমানে ঝিনাইদহে চায়ের দোকানে কাজ করে; বাবার খোঁজও রাখেন না।
বহু ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানান, শিমুলের বিরুদ্ধে মুখ খুললে হুমকি-ধামকির শিকার হতে হয়। তাই কেউ সাহস করে এগিয়ে আসে না।
সচেতন মহলের দাবি, অনলাইন জুয়ার মতো কার্যক্রমে তরুণ সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। শিমুলদের মতো চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এই নেটওয়ার্ক বন্ধ করা জরুরি।
এ বিষয়ে শিমুল বলেন, “এটা একটা চায়না কোম্পানি। ছেলে-মেয়েরা আড্ডা দিয়ে টাকা ইনকাম করে। সবাই চাইলেই এখানে কাজ করতে পারে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

