যশোরে পিচ্চি রাজার তাণ্ডব: ২১ মামলার আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত

আরো পড়ুন

রমজান হত্যা মামলাসহ ২১টি মামলার পলাতক আসামি ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী পিচ্চি রাজাকে ধরতে যশোরের চাঁচড়া রেলগেট এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৬ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সে এলাকায় অন্তত ছয়টি স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

৭ এপ্রিল রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালালেও কৌশলে পালিয়ে যায় পিচ্চি রাজা। তবে ওই অভিযানে ছয়টি দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো—খালিদ বিন ওয়ালিদ নাইম (১৭), শান্ত ইসলাম (১৬), রাকিব হাসান সাদিক ও শেখ সোহেল (২৮)।

স্থানীয়রা জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাতেই কলাবাগান এলাকায় তাণ্ডব চালায় রাজা ও তার সহযোগীরা। ছয়টি টিনের ঘর ভাঙচুর ও তিনটি ঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নিহত রমজানের ভাই সবুজ ও তার স্ত্রী ফারজানাকে মারধরের ঘটনাও ঘটায় তারা।

এছাড়াও, জেলখানায় থাকার সময় পিচ্চি রাজা এলাকায় থাকা কয়েকজনকে ফোনে চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। জামিনে বের হয়ে এসব ভুক্তভোগীদের বাড়ির সামনে গিয়ে অশালীন আচরণ করে বলেও অভিযোগ ওঠে।

রেলগেট পশ্চিমপাড়া, কলাবাগান, তুলোতলা, কয়লাপট্টি ও স্টেশন এলাকার বিভিন্ন স্পটে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পিচ্চি রাজা এবং তার সহযোগীরা এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের ধরতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান বলেন, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও দ্রুত বিচার আইনের আওতায় ২১টি মামলা রয়েছে। ৭ এপ্রিলের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও আটকদের নিয়ে নতুন মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, খুনসহ নানা অপরাধে জড়িতদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর টিম যৌথভাবে কাজ করছে। পিচ্চি রাজা ও তার বিপরীত পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় স্থানীয়রা নতুন কোনো বড় ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাস দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ