বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যশোরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। দেশীয় সংস্কৃতি পরিপন্থী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না, এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম।
সোমবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈশাখী প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়মূল নির্দেশনাসমূহ:
- বৈশাখী অনুষ্ঠান করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে।
- বিনা অনুমতিতে তিন থেকে সাত দিনের মেলা আয়োজন করা যাবে না।
- যেকোনো ধরনের লটারির আয়োজন নিষিদ্ধ।
- সব অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
- শোভাযাত্রায় রাজনৈতিক চারুকর্ম প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
এবার ‘মঙ্গল’ নয়, ‘বৈশাখ শোভাযাত্রা’:
এ বছর যশোরে মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে ‘বৈশাখ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন করছে চারুপীঠ যশোর।
শোভাযাত্রাটি কালেক্টরেট থেকে শুরু হয়ে দড়াটানা, চৌরাস্তা হয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল হয়ে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রা শুরু:
- তারিখ: ১৪ এপ্রিল
- সময়: সকাল ৯টা
- স্থান: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট চত্বর)
- শুরুর পর্ব: জাতীয় সংগীত ও “এসো হে বৈশাখ” পরিবেশন
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা:
- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
- কিশোর গ্যাং ও ‘চাকুর সংস্কৃতি’ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আরও নিষেধাজ্ঞা:
- পান্তা-ইলিশ পরিবেশনের কোনো ব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকছে না।
- লোকজ উৎসব বা বৈশাখী মেলা কোথাও হচ্ছে না।
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়েই শেষ করতে হবে।
সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের বৈশাখী আয়োজনে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা থাকবে।

