দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের ১২৭ জন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১১টায় এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে দেশের সব জেলা পুলিশের সুপার (এসপি), রেঞ্জ ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নির্ধারণ।
এর আগে রোববার (১৬ মার্চ) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর করণীয় নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টা এই বৈঠকের আয়োজন করেন।
বৈঠকে পুলিশের একটি অংশ বহুদিনের আলোচিত ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের দাবি তোলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিটি উঠে আসছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং ১৫ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করা হয়, যেখানে আইনজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি, সমাজবিজ্ঞানী, পুলিশিং বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর আপত্তি
তবে পুলিশের একটি অংশ এই প্রতিবেদনের কিছু সুপারিশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তাদের মতে, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় পুলিশের বাস্তব অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “বিচার-বিশ্লেষণের নামে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মতামতের কথা বলা হলেও পুলিশের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি ইনামুল হক সাগর বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য পুলিশের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে এবং বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এই বৈঠক কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

