যশোরের বঙ্গবাজারে একটি ওষুধের দোকানের তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, এই ঘটনায় তাদের প্রায় ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চৌধুরী ফার্মেসি অ্যান্ড সার্জিক্যালসের মালিক সোহেল রানা। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তার দোকান বন্ধ থাকাকালীন কয়েকজন দুর্বৃত্ত তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে।
ঘটনার বিবরণ
সোহেল রানা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা বস্তায় ভরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ওষুধ নিয়ে যায় এবং ক্যাশ থেকে ৫ লাখ টাকা ও জরুরি কাগজপত্র লুট করে। আশপাশের লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা হলেন:
- কাজী শহিদুল হক নাদিম (কাজীপাড়া কাঁঠালতলা)
- আহাদ (রাজারহাট)
- রাজু আহম্মেদ (ঝুমঝুমপুর)
সোহেল রানা জানান, তিন মাস আগে তিনি ৭০ লাখ টাকা দিয়ে নাদিমের কাছ থেকে দোকানটি কিনেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নাদিম আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। না দেওয়ায় তিনি মূল স্ট্যাম্প ছিঁড়ে ফেলেন, যা নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে এবং পিবিআই তদন্ত করছে।
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযুক্ত শহিদুল হক নাদিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ভিডিও ফুটেজ থাকার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ স্বপন কুমার দাশ জানান, অভিযুক্ত নাদিম বর্তমানে সিলেটে আছেন এবং তাকে শনিবারের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলের প্রতিক্রিয়া
বঙ্গবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে, নাদিম প্রথমে সোহেল রানার কাছে ৭০ লাখ টাকায় দোকানটি বিক্রি করেন এবং কাগজপত্র সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরে অন্য এক ক্রেতার কাছ থেকে বেশি মূল্যের প্রস্তাব পেয়ে তিনি সোহেল রানার কাছে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চুক্তিনামা ছিঁড়ে ফেলেন এবং দোকান দখলের চেষ্টা চালান।
পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

