চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুন: আলোচিত ইরফান গ্রেপ্তার

আরো পড়ুন

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে সার বোঝাই কার্গো জাহাজে সাতজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আলোচিত আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা র‍্যাব-১১ থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

চট্টগ্রামের কাফকো সার কারখানা থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি যাওয়ার পথে এমভি আল বাখেরা কার্গো জাহাজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাহাজে থাকা ৯ জনের মধ্যে ৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একমাত্র জীবিত ব্যক্তি জুয়েলকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জাহাজের মাস্টার, ড্রাইভার এবং অন্যান্য স্টাফদের মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় কোনো জিনিস খোয়া না যাওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলা ও তদন্ত

জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হাইমচর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড এবং নৌ পুলিশের সমন্বয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইরফানের ভূমিকা

ইরফান হত্যাকাণ্ডের সময় জাহাজে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রহস্যজনকভাবে জীবিত থেকে নিখোঁজ হওয়া ইরফানকে গ্রেপ্তার করার পর তার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

শ্রমিকদের দাবি

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। তারা আগামী ২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা প্রদানের দাবিও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফন সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ২০ হাজার টাকা এবং নৌ পুলিশ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছে।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।

জাগো/মেহেদী

আরো পড়ুন

সর্বশেষ