যশোরের মনিরামপুরে স্যানিটারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামকে (দুই সন্তানের জনক) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে এক নারীসহ চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বুধবার সকালে উপজেলার বাটবিলা সড়কের পাশে জহুরুলের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কোনাকোলা বাজারে নিজের স্যানিটারি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পরদিন স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, বাটবিলা গ্রামের ইলিয়াস হোসেন, উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এবং অভিযুক্ত নারীর নাম গোপন রাখা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অমিত কুমার দাস জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শ্যামনগর এলাকার এক ঘাট শ্রমিকের স্ত্রীর সঙ্গে জহুরুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। একই নারীর সঙ্গে আগে শফিকুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে শফিকুল ও জহুরুলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সম্প্রতি শফিকুল জহুরুলকে হুমকি দেন বলেও জানা গেছে।
জহুরুলের স্ত্রী সায়ফুন্নাহার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে যদি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরকে মামলার আসামি করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

