বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে

আরো পড়ুন

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষরত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মংডু শহর দখলের দাবি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, রোববার (৮ ডিসেম্বর) তারা মংডুর সীমান্ত ঘাঁটি এবং শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

আরাকান আর্মি জানিয়েছে, জান্তা সরকারের শেষ সীমান্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন নং ৫ দখল করতে তাদের কয়েক মাস লেগেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্রোহীরা আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ), এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

রাখাইনের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মংডুর যুদ্ধে ৮০ জন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীসহ সরকারি সেনাদের ধরার পাশাপাশি সামরিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরেইন তুনকেও গ্রেপ্তার করেছে আরাকান আর্মি।

মে মাসে মংডুতে আক্রমণ শুরু করে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ছয় মাস লড়াইয়ের পর তারা সীমান্তের পুরো এলাকাটি দখলে নিতে সক্ষম হয়।

ইরাবতী আরও জানিয়েছে, আরাকান আর্মি এখন মিয়ানমারের তিনটি সীমান্তবর্তী শহর—রাখাইনের মংডু ও বুথিডাং এবং চিন প্রদেশের পালেতোয়া—দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। পালেতোয়া ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

এই পরিস্থিতিতে রাখাইনের সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পুনঃস্থাপন রাখাইনের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ গত মাসে জানিয়েছিল, রাখাইনে প্রায় ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। জান্তা সরকার খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ মানবিক সহায়তা অবরোধ করে রেখেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ