খুলনার কপিলমুনির গোলাবাটিস্থ আশ্রয়ণ পল্লীর বাসিন্দা চন্দনা (২০), একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। বাজার থেকে সাথিদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর হঠাৎ বমি শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই চেতনা হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর আর ফিরে আসেননি।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। রোববার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর কয়রার চান্নিরচক শ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন হয়।
প্রাথমিক ধারণা:
অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ বা বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জীবনের করুণ কাহিনি:
শৈশব কাটলেও, বয়ঃসন্ধিকালে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর তাকে পরিবার ছাড়তে হয়। পরিবারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও তা ছিল গোপন। তৃতীয় লিঙ্গের অন্যদের মতোই একাকিত্ব এবং ভালোবাসার অভাব ছিল তার জীবনে।
অসম প্রেমের ইঙ্গিত:
স্থানীয় সূত্র ও সাথীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, চন্দনা কপিলমুনির এক যুবকের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন। হয়তো তাকে নিয়ে চন্দনা স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে সেই যুবকের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল সময় কাটানো। প্রায় আড়াই মাস আগে চন্দনা সেই যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেবার সাথীদের চেষ্টায় বেঁচে যান তিনি। তবে এবার আর তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন:
চন্দনার মৃত্যুর পর থেকে আশ্রয়ণ পল্লী এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কে ছিল সেই যুবক? তার সাথে কী ঘটেছিল মৃত্যুর আগে? যদিও চন্দনার পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
চন্দনার আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা চান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হোক।

