- ভারতে পাচারের শিকার ২৪ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে তাদেরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের গ্রহণ করেন যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাজিব হাসান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহসানুল কাদের ভূঁইয়া, সেকেন্ড অফিসার নয়ন রায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবু তাহের, রাইটস যশোরের কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন ও তৌফিকুজ্জামান।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী রয়েছেন। তারা যশোর, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, লালমনিরহাট এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
রাইটস যশোরের কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান জানান, প্রত্যাবাসিত নারীরা এক থেকে আট বছর আগে চাকরির প্রলোভনে পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে ভারতে যান। সেখানে প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে তাদের খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং আদালতের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি শেল্টারহোমে পাঠায়। এরপর রাইটস যশোর হোম ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে। দুই দেশের সরকারি অনুমোদনের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইমতিয়াজ আহসানুল কাদের ভূঁইয়া জানান, এরা সবাই পাচারের শিকার। বিভিন্ন সময়ে তাদের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। দেশে ফেরার পর বেনাপোল উপজেলা প্রশাসন এবং ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে তাদের গ্রহণ করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে রাইটস যশোর, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এবং এসিডি রাজশাহী প্রত্যাবাসিতদের নিজেদের জিম্মায় নেয়।
তৌফিকুজ্জামান আরও জানান, সার্ভাইভারদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে তাদের মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাইটস যশোরের শেল্টারহোমে রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে।
ভারত থেকে ফিরে এলেন পাচারের শিকার ২৪ জন

