মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানায় গ্রেফতার হওয়া ২৭ জন জঙ্গির মধ্যে রয়েছেন যশোরের ফাহিম খান। ঢাকার নটরডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার বাসিন্দা ও যশোর আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আয়ুব খান বাবুলের ছেলে। জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদ কাফেলার সদস্য হিসেবে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।
এদিকে, ঢাকায় লেখাপড়া করতে যাওয়া ফাহিম এভাবে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার খবরে যশোরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানায় ২৭ জন জঙ্গির গ্রেফতারের তথ্যটি মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিশ্চিত করেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কুলাউড়া থেকে ১২ ও ১৪ আগস্ট দুদফা ইমাম মাহমুদ কাফেলার ২৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয় । এর মধ্য দুজন চীনফেরত প্রকৌশলী ও একজন চিকিৎসক রয়েছেন।
১৪ আগস্ট আটক ১৭ জনের মধ্যে যশোরের ছেলে ফাহিম খানও রয়েছেন। তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তিনি। পরে স্বজনদের ছেড়ে জঙ্গি আস্তানায় চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম গতবছর যশোর জিলা স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপি-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছিল। এরপর তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হয় । ঢাকায় কলেজে পড়াশোনার মধ্যেই কখন তিনি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা কেউ জানে না। গত ১৪ আগস্ট কুলাউড়ায় আটকের পর বিভিন্ন মিডিয়ার খবর দেখে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার খবর পেয়েছেন। এদিকে আটকে খবর পাওয়ার পরই ফাহিমের পিতা অ্যাডভোকেট আয়ুব খান বাবুল মৌলভীবাজারে গেছেন।
এই ব্যাপারে অ্যাডভোকেট আয়ুব খান বাবুল জানান, ২৮ জুলাই সকাল থেকে ফাহিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। ফলে ওইদিন রাতেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা মর্মে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে ছেলে কিভাবে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে তা জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, নটরডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র যশোরের ফাহিম ঢাকায় লেখাপড়া করতে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার খবরে যশোরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । স্থানীয় প্রশাসনও তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পিতা যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেন। জিডির পর পুলিশ তার অনুসন্ধানও শুরু করে। এরই মধ্যে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তাদের অভিযানে জঙ্গি আস্তানা থেকে তাকে আটক করেছে বলে জেনেছেন।
ওসি তাজুল ইসলাম আরো জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন ফাহিমের জীবনযাপন স্বাভাবিক ছিল না। তারা ফাহিমের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান করছেন। তবে সিটিটিসি ফাহিমের আটকের ব্যাপারে এখনো তাদেরকে কিছু জানায়নি।

