সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
রবিবার (০৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ম্যুরালে’ এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় ইবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হুরায়রা বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। আমরা দেখেছি, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে বহিষ্কারের মাধ্যমে উপাচার্য নিজের স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আগামী শনিবারের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। আগামী শনিবারের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হবে।
মানববন্ধনে প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক মুনজুরুল ইসলাম নাহিদের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ইবি প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রুমি নোমান, প্রচার, প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক রাকিব হোসেন রেদওয়ান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইবি প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য নুর আলম, আবির হোসেন ও নাজমুল হুসাইন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমানুল সোহান, দফতর সম্পাদক তাজমুল হক জায়িম, অর্থ সম্পাদক রাকিব রিফাত, প্রচার সম্পাদক মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ ও সদস্য ইমরানসহ সমিতির অন্যান্য সদস্য।
এর আগে গত ৩১ জুলাই দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার অনলাইনে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে: কুবি উপাচার্য’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইকবাল মনোয়ার ওই সংবাদ করেছেন মর্মে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত বুধবার (০২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্য ‘বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করায় মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। ইকবাল মনোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

