জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বরখাস্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর সহযোগী নয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতে বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মধ্য ধাতুয়াকান্দার বাড়ি থেকে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। নয়ন ওই এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রত্যক্ষভাবে নয়ন মিয়ার সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ বাড়ি থেকে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু, মনিরুজ্জামান মনির ও রেজাউল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে এখন পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৭ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ১৭ আসামি বাইরে থাকায় তারা (পরিবারের সদস্যরা) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
গত ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পৌর শহরের সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ মোড়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাংবাদিক নাদিম। প্রথমে তাকে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে যারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান আসামি করে নামীয় ২২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
সাংবাদিক নাদিম বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি ও একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি ছিলেন।

