অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দিয়েছে যশোর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদ ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু, সহ-সভাপতি, আবু হাসান, শাহেদ হোসেন জনি, রবিউল ইসলাম লবিন, যুগ্ম-সম্পাদক ষষ্টি কুমার দত্ত ও জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান মনজুসহ নেতৃবৃন্দ।
স্বারকলিপিতে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে, এই বিল ট্রেড ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক কর্ম পরিচালনার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এই ভূখণ্ডের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল কেড়ে নেয়ার সামিল। এই বিল আইনে পরিণত হলে তা হবে আইএলও কনভেনশনের স্বীকৃত ধর্মঘটের মৌলিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সুপারিশের পরিপন্থী। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, একান্ত বাধ্য না হলে ধর্মঘট শ্রমিকরা সাধারণত করে না, ধর্মঘট করতে চাইলে শ্রম আইনের বিধান মেনে করতে হয় এবং বেআইনি ধর্মঘটের বিরুদ্ধে শ্রম আইনেই শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা সত্ত্বেও অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল উত্থাপন সচেতন শ্রমিকদের কাছে বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে এবং শ্রমিক অঙ্গনে অসন্তোষের বীজ বপন করেছে।
বর্তমানে শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান আছে। শ্রমিক সংগঠন, মালিক সংগঠন, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নানা ধরনের সংশোধন প্রস্তাবনা দিয়েছে। আইএলও কমিটি অফ এক্সপার্ট এর পর্যবেক্ষণকেও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সেই সময় এই বিল উত্থাপন শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ত্রি- পক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে এই বিল উত্থাপিত হয়েছে। শ্রম সংক্রান্ত যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত টিসিসি মিটিং এর মাধ্যমে অনুমোদিত হওয়ার কথা। কিন্তু ত্রি-পক্ষীয় কোন সভায় এই বিলের ব্যাপারে কোন আলোচনা হয় নাই।
এই আইন দেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার গৃহীত নীতিমালা, সুপারিশ এর সাথে অস পতিপূর্ণ। ফলে এই আইন প্রণীত হলে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।
বাংলাদেশ কম মজুরী ও আধিক পরিশ্রমের দেশ হিসেবে পরিচিত। এই বিল আইনে পরিণত হলে দেশী বিদেশী শ্রম শোষণকারী মালিক এবং কোম্পানিসমূহ উৎসাহিত হবে আর শ্রমিকদের প্রতিবাদের শেষ হাতিয়ার না থাকায় তারা অসহায়ের মত নিপীড়ন মানতে বাধ্য হবে এবং দেশের শ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল নামে এই বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, আপাত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে। ফলে এই বিল আইনে পরিণত হলে শ্রম আইনের উপর এই আইন প্রাধান্য পাবে। অথচ শ্রম আইনে বলা হয়েছে এই আইনের অন্যত্র ভিন্নরূপ কিছু নির্ধারিত না থাকিলে, এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে। সে কারণে আমাদের আশংকা যে, এই অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল আইনে পরিণত হলে তা শ্রম আইনকে অকার্যকর করে ফেলবে। কারণ, শ্রম আইনের ২০৯ ধারায় শিল্প বিরোধ উত্থাপন, ২১০ ধারায় শিল্প বিরোধ নিস্পত্তির বিধান আছে। বিরোধ নিস্পত্তির সকল পথ বন্ধ হয়ে গেলে ২১১ ধারায় ধর্মঘটের বিধান এবং পদ্ধতির উল্লেখ করা আছে। ফলে এই বিল আইনে পরিণত হলে শ্রম আইনে ধর্মঘটের যতটুকু আইনসংগত অধিকার আছে সেটাও বাস্তবে কেড়ে নেয়া হবে।

