খুলনাসহ ৪ জেলায় নিজস্ব ভবন পাচ্ছে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর

আরো পড়ুন

নিজস্ব ভবন পাচ্ছে ৩ বিভাগীয় জেলা শহর এবং গোপালগঞ্জ জেলার মহিলা বিষয়ক অধিদফতর। ‘নারী উন্নয়ন কমপ্লেক্স’ নামে তৈরি করা হবে এই ভবনগুলো। এজন্য ‘খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় জেলা শহর এবং গোপালগঞ্জ জেলায় নারী উন্নয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ২৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব নারী উন্নয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ করা সম্ভব হবে। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে সংশ্লিষ্ট জেলার কার্যক্রম সহজ ও দ্রুততার মধ্যে তার সঠিক বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪টি শহরে ১০ তলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ নির্মাণ করা হবে। ২৬৯টি অফিস সরঞ্জাম ও ৯ হাজার ৮০টি আসবাবপত্র কেনা হবে। বিভাগীয় জেলা শহরে অনগ্রসর স্বল্প শিক্ষিত নারীর ক্ষমতায়নে কর্ম উপযোগী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে কাজ করতে পারেন সে উদ্দেশ্য তাদের শিশুদের দিবাকালীন নিরাপত্তা সেবাও দেয়া হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরো বলা হয়, সরকার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় মহিলা বিষয়ক অধিদফতর মহিলাদের উন্নয়ন এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য শুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি দেশের অন্যতম সংস্থা। যার সব সুবিধাভোগী এবং অংশগ্রহণকারী নারী। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর সব জেলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকারের নারী ও শিশুবান্ধব নীতির কারণে এ অধিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের নিজস্ব কোন অফিস নেই। ভাগ, জেলা এবং উপজেলা অফিসগুলো ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবছর মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অফিস ও বিভিন্ন কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এছাড়া ভাড়া বাড়িতে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। সে জন্য মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির ওপর গত বছরের ১০ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কিছু বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় পিইসি সভার আয়োজন করা হয়েছে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৩ সালের জুলাই হতে নির্ধারণ করা যেতে পারে। অর্থ বিভাগের সুপারিশ করা কাঠামোতে ৩ বা ৪ গ্রেডভুক্ত প্রকল্প জনবল নিয়োগের সুপারিশ থাকায় তিন বা চার গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা যে ধরণের ভাতা পেয়ে থাকেন সে ধরনের ভাতার খাতে ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে।

আরো বলা হয়েছে, এর আগে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভার সুপারিশ অনুযায়ী আপ্যায়ন ব্যয় ১০ লাখ টাকা, সভা সেমিনার ১০ লাখ টাকা, প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ ৪০ লাখ টাকা, অডিও ভিডিও নির্মাণ ১০ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও বাধাই ২০ লাখ টাকা, অন্যান্য মনিহারি ২৫ লাখ টাকা, ব্যব্হহার্য দ্রব্য ৩০ লাখ টাকা, অনুষ্ঠান বা উৎবাদী ৩০ লাখ টাকা, নির্ধারণ করা যেতে পারে। যানবাহন ব্যয় বাদ দিয়ে মধ্যবর্তী মূল্যায়ন বাবদ ৮ লাখ টাকা রাখা যেতে পারে।

প্রকল্প অফিসের জন্য কম্পিউটার তিনটি, ল্যাপটপ দু’টি, টিভি একটি, ফ্রিজ একটি, ফটোকপি মেশিন একটি, প্রিন্টার তিনটি রাখা যেতে পারে। বিভাগীয় অফিসের জন্য ফ্রিজ বাদ দিতে হবে। লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেপত্র সেন্টারের জন্য যন্ত্রপাতি বাদ যাবে। তিনটি ভবনের একতলা বাদ যাওয়ায় আসবাবপত্র যৌক্তিকভাবে হ্রাস করতে হবে।

এসব বিষয় নিয়েই দ্বিতীয় পিইসি সভায় আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ