আসন্ন ঈদুল আযহা যশোরের চাহিদার চেয়ে পশু সরবরাহ বেশি। ফলে কোরবানির পরও জেলায় ২ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে জানিয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর। অন্যদিকে, চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পশু খামারিরা। পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু মোটাতাজাকরণে তাদের ব্যয় বেড়েছে অনেক। সেই অনুযায়ী দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর তথ্যমতে, আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে যশোরের গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৯ হাজার। এর মধ্যে গরু ২৯হাজার ও ছাগল ৬০ হাজার। বিপরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯১ হাজার পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩১হাজার ও ছাগল রয়েছে ৬০ হাজার। ফলে উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে ২হাজার।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আরও জানিয়েছে, যশোরের ৮ উপজেলায় মোট ২৪টি পশুহাট রয়েছে। কোরবানি উপলক্ষে এই হাটগুলোতে মোট ২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করবে। একই সাথে এ বছর অনলাইনে পশু কেনাবেচার সুযোগের পাশাপাশি পশুহাটে থাকছে ক্যাশলেস সুবিধা। ফলে, টাকা ছিনতাই, জাল টাকার আদান-প্রদান এবং টাকা বহন করার ঝামেলা পোহাতে হবে না ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা এই ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়া যাবে।
যশোরের বসুন্দিয়ার খামারি কামাল হোসেন বলেন, আমার খামারে ২২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি গরু এবার কোরবানির ঈদে হাঁটে ওটাবো। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে ব্যয় হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা। তিনি আরও বলেন, গতবছর চাহিদা অনুযায়ী পশু বিক্রি করতে পারেনি। এবছর করোনা ছিল না; সেই অনুযায়ী এবার ভালো দাম পেতে পারি।’
মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ার খামারি আফজাল হোসেন বলেন, এবছর গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়েছে, এবার দামটাও ভালো পাওয়া উচিত। চোরাইপথের গরু হাটে না আসলে ভালো দাম পেতে পারি।’
খামারিরা আরও বলছেন, করোনার পরে বেশির ভাগ খামারি নিজেদের গচ্ছিত পুঁজি দিয়ে খামার কোরবানির জন্য পশু পালন করেছে। আবার অনেক খামারি এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েও পশু পালন করেছে। চাহিদার উদ্বৃত্ত থাকায় দেশি পশুতেই এবার কোরবানি হবে। সেজন্য দামের উপরে উদ্বৃত্ত পশুর চাহিদার প্রভা যাতে না পরে।
যশোর জেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রাশেদুল হক বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কোরবানির জন্য সকল ধরণের প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি। এবছর দেশি পশুতে কোরবানি হবে। বাহির থেকে কোন পশু আমদানি করা হবে না। যশোরের এবছর চাহিদার তুলনায় ২হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।’

