আহলান সাহলান মাহে রমজান, জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস

আরো পড়ুন

পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ মার্চ)। রহমতের মাস, মাগফেরাতের মাস এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস এটি। নেকী কামাইয়ের মৌসুম শুরু হচ্ছে।

রমজান মাস বছরের সমস্ত মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মাস। সবচেয়ে ফযিলতের মাস। একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরযের সমতুল্য হয়ে যায়। আর একটি ফরজের সওয়াব সত্তরটি ফরজের সমতুল্য হয়ে যায়।

রমজানে দিনের বেলায় রোজা রাখাকে ফরয করা হয়েছে এবং রাতের বেলা কিয়ামুল লাইল তথা তারাবিহকে সুন্নাত করা হয়েছে। আল কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোজার বিধানকে ফরজ করা হলো। যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকেও রোজার বিধান দেয়া হয়েছিলো। এই বিধান দেয়ার উদ্দেশ্য, যাতে তোমরা তাকওয়া-পরহেজগারির অধিকারী হতে পারো।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৮৩)

তাহলে রোজার উদ্দেশ্য তাকওয়া তথা পাপ থেকে বিরত থাকা, পাপের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া। পাপ সংযমী কিভাবে হবো? এটা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে পাপ কিভাবে হয়? সাধারণত মানুষের পাপ হয় দুটি কারণে পেটের কারণে কিংবা যৌনাঙ্গের কারণে। রোযার মাধ্যমে এই দুটোকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।

রোজা দ্বারা শুধু যে পানাহার বা যৌনাচারকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় তা নয়, সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কারণ সকল অঙ্গের পাপ থেকে বিরত থাকার দ্বারাই কেবল রোজা পূর্ণাঙ্গ হয়। চোখের সকল পাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। মুখের সকল পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। কানের যত পাপ হতে পারে, সেটা থেকে দূরে থাকতে হবে। এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে হাদিস শরিফে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘রোজা হলো ঢাল স্বরুপ, যতক্ষণ এই ঢালকে ফেড়ে দেয়া না হয়।’’ (সহিহ মুসলিম: ১১৫১)

ঢাল দ্বারা আত্মরক্ষা হয় শত্রুর আক্রমণ থেকে আর রোযা দ্বারা আত্মরক্ষা হয় পাপ থেকে। মিথ্যা গীবতের মতো পাপ দ্বারা রোযা পূর্ণাঙ্গ থাকে না। এজন্য রোযার মাধ্যমে পাপ থেকে সংযমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমার আল্লাহ আমাকে দেখছেন সবসময়, এটা মনে জাগরুক রাখতে হবে।

তাই পুরো রমজান কাটাবো ইবাদতের মাধ্যমে। দিন কাটবে রোজা ও বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আর রাত কাটবে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ নামাজে। রমজান মাসে চারটি আমল বেশি বেশি করতে বলা হয়েছে। এক, বেশী বেশী ইস্তেগফার করা। দুই, বেশী বেশী লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়া। তিন, বেশী বেশী জান্নাত লাভের দোআ করা। চার, বেশী বেশী জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোআ করা।

আল্লাহ আমাদেরকে রমজান মাসকে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমীন!

লেখক: মুফতী আরীফুল ইসলাম ফয়সাল।
          সিনিয়র মুহাদ্দিস, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দড়াটানা মাদরাসা, যশোর।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ