৬ মাস আগে মানিকগঞ্জের জুয়েলারি ব্যবসায়ী হাবু মিয়া রাজধানীর তাঁতীবাজারের কারখানায় কর্মচারীর মাধ্যমে ৯৮ ভরি গলানো সোনা পাঠান। কারখানা বন্ধ থাকায় সোনা নিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। পথে কেরানীগঞ্জে তার গতিরোধ করা হয়। এরপর অবৈধ মাদকদ্রব্য রয়েছে অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল মুন্সী কামরুজ্জামান লিংকন তার সহযোগীদের মাধ্যমে সোনাগুলো ডাকাতি করেন। এর মধ্যে ৩৬ ভরি কামরুজ্জামানের স্ত্রী নাহিদা নাহার মেমির কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক অলোক কুমার দে বলেন, এ ঘটনায় চার্জশিটে কনস্টেবল কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কামরুজ্জামানের স্ত্রীর কাছে থেকে ৩৬ ভরিসহ মোট ৫১ ভরি সোনা ও ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়, যা আদালতের মাধ্যমে বাদীর জিম্মায় দেয়া হয়েছে। এ মামলার অভিযোগ সাক্ষীরা আদালতে প্রমাণ করবেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, কনস্টেবল মুন্সী কামরুজ্জামান লিংকন, তার স্ত্রী নাহিদা নাহার মেমি, শফিকুল ইসলাম, উত্তম চন্দ্র মজুমদার, শরীফুল ইসলাম, জাকির হোসেন, রহমান সরদার, আনন্দ পাল, নজরুল ইসলাম, উত্তম পাল ও দুলাল চন্দ্র পাল। এর মধ্যে আনন্দ, উত্তম পাল ও দুলাল পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া নাসির ও মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও ডাকাত দলের মূলহোতা। অন্যরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। শফিকুলের নেতৃত্বে আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে সংঘবদ্ধভাবে যাত্রীদের টার্গেট করেন।
ভুক্তভোগী কর্মচারী বরুণ ঘোষকে ছয় মাস আগে থেকে বিভিন্ন সময় গলানো সোনা কারখানায় আনা-নেয়ার কাজ করেন। ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে গলানো ৯৮ ভরি সোনা মোটরসাইকেলে করে রাজধানীর তাঁতীবাজারে রওনা করেন বরুণ। কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় মোটরসাইকেল রেখে তাঁতীবাজার যান তিনি। কারখানা বন্ধ থাকায় বরুণ মোটরসাইকেলের কাছে ফিরে এলে দুজন সিভিল ও দুজন মহানগর পুলিশের পোশাক পরিহিত এসে তার কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য রয়েছে বলে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়িতে তুলে তাকে কিলঘুসি মেরে ৯৮ ভরি সোনা ও তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর চুপ থাকতে বলে ঝিলমিল প্রজেক্টের ফাঁকা রাস্তায় নামিয়ে দেয়।
কনস্টেবল কামরুজ্জামান ও আনন্দকে গ্রেফথার করা হয়। উত্তম পালের বাসা থেকে ৯ ভরি ৮ আনা সোনা, দুলালের বাসা থেকে ৫ ভরি ১৪ আনা সোনা জব্দ করা হয়। পরে সুমনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার বিক্রির ৮ লাখ টাকা, উত্তম মজুমদারের কাছে থেকে ৪ লাখ টাকা ও শরীফের কাছে থেকে ৩ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। রহমানকে গ্রেফতার ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। নাহিদা নাহারকে গ্রেফতার ও ৩৬ ভরি সোনা জব্দ করা হয়।
মামলার বাদী হাবু মিয়া বলেন, ৫১ ভরি ৫ আনা সোনা এবং ১৫ লাখ টাকা পেয়েছি। তবে এখনো ২৫ লাখ টাকা দাম হবে সোনা ফিরে পাইনি।

