বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যু, পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

আরো পড়ুন

আশুলিয়ার জামগড়া উত্তর মীর বাড়ি এলাকার তাজিবুল মীরকে (৩০) পরিকল্পিতভাবে মদ পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজীবুল মীর মারা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াহিদুল মীর বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ৬ জানুয়ারি আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইলে সুমন মিয়ার ইন্টারনেট অফিসে তাজিবুল মীর ও সুমন মীরসহ ৬-৭ জন একসাথে বিদেশি মদ পান করেন। এ ঘটনায় তাজিবুল মীর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজিবুল মীরের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা ২১ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে ২৮ জানুয়ারি সকালে তাজিবুল মীরকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

নিহতের বাবা ওয়াহিদুল মীর অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে যারা ষড়যন্ত্র করে মদ খাইয়ে হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা তাকে ডেকে নিয়ে বিষাক্ত মদ খাইয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুইদিন আগেও তার ছেলের ইন্টারনেট লাইন কেটে দখলে নিয়েছে মোর্শেদ ভুঁইয়ার ছেলে মারুফ ভুঁইয়া (২৬)।

এ ঘটনায় তাজিবুলের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, একদিকে আমার সন্তান মারা যাচ্ছে আর অন্য দিকে ষড়যন্ত্রকারীরা তার ব্যবসা দখলের পাঁয়তারা করছে। এছাড়া আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছি। যারা ষড়যন্ত্র করে ইন্টারনেট ব্যবসা দখল করেছে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাদাইল এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে জমজমাট মাদক ব্যবসা চলছে। র‌্যাবের হাতে ইতোমধ্যে কয়েকজন আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বড় কারবারিরা। দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা। আশুলিয়ার জামগড়ার তাজিবুল মীরকে পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত মদ খাওয়ানো এবং তার মৃত্যুর জন্য দায়ীদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোমানের কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং তার সাথে সশরীরে এসে দেখা করার প্রস্তাব দেন। তবে থানায় মামলা দায়ের হলে অবশ্যই তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ