রংপুরের কাউনিয়ায় ‘আমাকে ক্ষমা করিও’ চিরকুট লিখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুরমা খাতুন (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের সোনাতন চিলমারী টারি গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সুরমা খাতুন মীরবাগ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সোনাতন চিলমারী টারি গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।
ওই শিক্ষার্থী মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা ছিল: ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার জন্য সবাই দোয়া করিও। ক্ষমা করিও সবাই। সবাই দোয়া করিও।’
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমান সুরমা। সোমবার ভোরে নামাজ পড়ার জন্য পাশের ঘর থেকে সুরমাকে ডাকাডাকি করেন মা দোলেনা বেগম। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান মেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন এসে মেয়ের মরদেহ নিচে নামান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে।
হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘মেয়েটি খুবই ভালো। নামাজ পড়ত এবং কোরআন তেলাওয়াত করত। সম্প্রতি সে মীরবাগ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার খাতায় ভালোভাবে লিখতে পারে নাই। আর পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে বাবা-মা বকা দেবেন–এমন ভয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
সুরমার মা দোলেনা বেগম বলেন, “রোববার রাতে মেয়ে আমাকে বলে: ‘মা আমার রেজাল্ট ভালো না হলে আমার ওপর রাগ করো না।’ আমার মেয়ে পরীক্ষার ফল খারাপ হবে ভয়ে রাতের যেকোনো সময় ঘরের মধ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।”
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করেছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
জাগো/আরএইচএম

