যশোরে ইরফান ফারাজি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ওরফে পাখিকে আটক করেছে পুলিশ।
পুরাতন কসবা ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চাঁচড়া রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাখিকে আটক করেন। এ সময় তার স্বীকারোক্তিতে রেলগেটের একটি ডোবা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আটক আব্দুল্লাহ ওরফে পাখি রেলগেট রায়পাড়ার লিয়াকত হোসেনের ছেলে।
কসবা ফাঁড়ি ইনচার্জ রেজাউল করীম জানান, ইরফান হত্যায় পাখি সরাসরি জড়িত। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি আরো জানান, এর আগে এ হত্যার পরিকল্পনাকারী আব্দুল কাদেরকে আটক করা হয়। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, পাখি আদালতকে জানিয়েছে, ইরফানকে চাকরি দেয়ার নাম করে স্থানীয় রাজনীতিক কাদের চার লাখ টাকা নেয়। কিন্তু চাকরি দিতে না পারায় ইরফান টাকা দাবি করে। ওই টাকা ফেরৎ যাতে না দেয়া হয় সেজন্য কাদের তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পাখি জানিয়েছে, কাদেরের সাথে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় ইরফানকে হত্যার জন্য। ঘটনার ৭ দিন আগে কাদের সেখানে গিয়ে দোকান ও ইরফানকে দেখিয়ে দিয়ে আসে। সে মোতাবেক ২২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে তারা ৫ জন সেখানে যায়। সে ছাড়াও তাওহিদ, শিশির, রাহুল ও বিপ্লব ঘটনাস্থলে ছিলো। দোকানের গিয়ে তাওহিদ একটি চিপস চায়। দোকানদার তাকে সামনে ঝোলানো চিপস ছিড়ে নিতে বলে। কিন্তু তাওহিদ বলে ছিড়ে দিতে। সে সময় ইরফান দোকান থেকে বেরিয়ে চিফস এর প্যাকেট ছিড়তে যান। সে সময় পাখি চাকু মারতে ইশারা করতেই তাওহিদ চাকু ঢুকিয়ে দেয় ইরফানের পেটে। পরে সে, রাহুল ও শিশির চাকু মারে। তাদের ৫ জনের কাছে ৫ টি চাকু ছিলো। যা পরিকল্পনাকারী কাদের দিয়েছিল। চাকু মারার পর বিপ্লব একদিক দিয়ে বাকিরা অন্যদিকে দিয়ে পালিয়ে যায়।
ইরফানকে চাকু মারার কথা কাদেরকে জানালে কাদের তাদের হাতে আরো ১৫ হাজার টাকা তুলে দেয়। ঘটনার আগে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। ওই টাকার মধ্যে রাহুল ও পাখি ৩ হাজার টাকা পায়। পাখি বাড়িতে গিয়ে রক্তমাখা জামা তার মায়ের কাছে দিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলতে বলে। পরে সে বাগেরহাটে চলে যায়। সেখান থেকে কাদের তাকে ঝিকরগাছায় যেয়ে দেখা করতে বলে। পরে কাদের তাকে বেনাপোলে নিয়ে যায়। এবং এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তাকে অবৈধ পথে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর সে ফের বেনাপোলে ফিরে আসে। বেনাপোলে গত বুধবার থাকার পর বৃহস্পতিবার যশোর শহরে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বের প্রকাশ্যে নিজ দোকানের সামনে হত্যা করা হয় ইরফান ফারাজিকে। তিনি যশোর শহরের খড়কি ধোপাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ফারাজি। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন যশোর জেলা শাখার সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ও পলেটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় মামলার পর র্যাব তাওহিদকে আটক করে। এরপর বেরিয়ে আসে হত্যার মূল রহস্য। ধীরে ধীরে জড়িতদের আটক ও রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ। সর্বশেষ এ হত্যায় জড়িত আরেক আসামি পাখিকে আটক করা হয়।

