প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বাদ ফজর থেকে ইজতেমা মাঠে আখলাক, ইমান ও কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান চলছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমরা বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করছেন। প্রথম পর্বের ইজতেমায় টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। লাখ লাখ মুসল্লির পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে টঙ্গীর তুরাগতীর।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মাহফুজ জানান, প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বয়ান করেছেন পাকিস্তানের মাওলানা খোরশিদুল হক। সকালের বয়ানে বলা হয় পরকালের চিরস্থায়ী সুখ শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যেককে দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে জানমাল দিয়ে মেহনত করতে হবে। ইমান আমলের মেহনত ছাড়া কেউ হাশরের ময়দানে কামিয়াব হতে পারবে না। দাওয়াতের মেহনত হলো নবুওয়াতি মেহনত। খুলুসিয়াত ও আজমতের সঙ্গে যারা মেহনত করবে তাদের যে কোনো আমলের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়।
সকাল ১০টায় বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, পরে মাদরাসা ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা খোরশিদ, আরব জামাতের জন্য বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহমদ লাট, বোবা ও বধিরদের জন্য বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সানোয়ার, বিদেশি জামাতের মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা ইফতার জামান। বাদ জোহর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ফারুক। বাদ আসর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা যুহাইরুল হাসান এবং অনুবাদ করবেন মাওলানা যোবায়ের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে বয়ান। ইজতেমায় মূল বয়ান উর্দুতে হলেও অংশ নেয়া বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে ইজতেমা মাঠের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক গতকালের তুলনায় অনেকটা ফাঁকা দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার জুমার দিন থাকায় দেশের সর্ব বৃহৎ জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করার জন্য ফজরের নামাজের পর থকেই ইজতেমা মাঠে জড়ো হতে থাকেন সব বয়সের মানুষ। এ দিন টঙ্গী শহর ও ইজতেমাস্থলের আশপাশ এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ইজতেমা অভিমুখী সব প্রকার যানবাহনে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ভিড়। দুপুরের আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ময়দানে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা সড়ক ও খোলা স্থানে চটের বস্তা, পাটি, চাদর বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপকমিশনার আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়ক গতকালের চেয়ে ফাঁকা থাকলেও ইজতেমামুখী মুসল্লিদের স্রোত কমেনি। মুসল্লিরা নির্দেশনা মেনে চলাচল করায় কিছুটা ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
আগামীকাল রবিবার (১৫ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বরাবরের মতো এবারো সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ানের পর বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মোনাজাতে বিশ্বের সব মানুষের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। আয়োজকরা ধারণা করছেন, প্রায় ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবেন।
ইজতেমার আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বয়কারী জহির ইবনে মুসলিম জানান, দ্বিতীয় দিন ইবাদত বন্দেগি করে দিন পার করছেন মুসল্লিরা। তাশকিল কামরায় চিল্লাধারী মুসল্লিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখানে তিন দিন, চল্লিশ দিন বা এক বছরের জন্য যেসব সাথী দাওয়াতি কাজে যাবেন তারা নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন। এরপর আখেরি মোনাজাতের পর দেশ-বিদেশে বেরিয়ে পড়বেন।
অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণবিয়ে: জহির ইবনে মুসলিম আরো বলেন, কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর এবার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে। বর এবং কনে পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে শতাধিক গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাদ আসর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে খেজুর বিতরণ করা হবে।
আখেরি মোনাজাতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ : আখেরি মোনাজাতে গাজীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমাস্থলে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে উপলক্ষে রাত ১০টার পর থেকে আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত আব্দুল্লাহপুর-ভোগড়া বাইপাস ও কামারপাড়া-মীরেরবাজার এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ি ডাইভারশন করা হয়েছে। এসব গাড়ি ইজতেমাস্থলে প্রবেশ করবে না। শুধু ইজতেমার মুসল্লিবাহী বাস ও গণপরিবহন চলাচল করবে।

