এবারের হজে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে পবিত্র শহর মক্কা-মদিনা। করোনাভাইরাস কারণে গত বছর সামর্থ্যরে অর্ধেকেরও কম মানুষ হজ করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকেও আগের মতো পুরো কোটায় অর্থাৎ এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। একই সাথে উঠে গেছে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের হজ পালনের নিষেধাজ্ঞাও।
বর্তমানে সৌদি আরবে হজ ও ওমরা সম্মেলন এবং মেলা চলছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। এ জন্য গত ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে যান তারা। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম। সৌদি আরব প্রতি বছর এ মেলার সময় বিভিন্ন দেশের সাথে হজ চুক্তি সম্পন্ন করে থাকে। সে অনুসারে গতকাল সোমবার সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের হজ চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হজ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী এবার সরকারিভাবে ১৫ হাজার এবং বাকি এক লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন বেসরকারিভাবে এজেন্সির মাধ্যমে হজে যেতে পারবেন। হজ টিমের (প্রশাসনিক ও মেডিক্যাল) সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে যেতে পারবেন এক হাজার ২৭০ জন। এবার রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হবে। হজযাত্রীদের অবশ্যই কোভিড টিকা নিতে হবে। জেদ্দা দিয়ে ৭০ শতাংশ এবং মদিনা দিয়ে ৩০ শতাংশ হজযাত্রী আসা-যাওয়া করবেন। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম ই-হজ ব্যবস্থাপনার আওতায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
করোনাভাইরাস মহামারীর আগে ২০১৯ সালে স্বাভাবিক হজ পালিত হয়। তখন বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করেন। ২০২০ সালের জন্য বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে হজ সংক্রান্ত যে চুক্তি হয়, সেখানে বাংলাদেশীদের হজযাত্রীর কোটা ১০ হাজার বাড়ানো হয়। ২০২০ সালে এক লাখ ৩৭ হাজার বাংলাদেশী হজে যেতে পারতেন, কিন্তু করোনার কারণে সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ থেকে কেউ হজ পালন করতে পারেননি। সে সময় সৌদির মাত্র ১০ হাজার নাগরিক হজ পালন করেন। ২০২১ সালেও বিদেশীদের জন্য হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই বছর সৌদিতে থাকা ৬০ হাজার মানুষ হজ পালন করেন।
করোনা মহামারী কমে এলে গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে কোটা অর্ধেক করে হজ পালনের অনুমতি দেয় সৌদি আরব। বাংলাদেশ থেকে ৬০ হাজার মুসলমান হজ পালন করেন। সারা বিশ্ব থেকে হজ পালন করেন ৯ লাখ মানুষ। তবে স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান হজ পালন করে থাকেন। এবার সে-সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। করোনা মহামারীর কারণে গত বছর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের হজ পালনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবার সেসব নিষেধাজ্ঞাও থাকছে না।

