রক্ত নিতে এসে জীবনটাই চলে গেলো আরাফাতের

আরো পড়ুন

৫ বছর বয়সী আরাফাত ইসলাম। সবেমাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছিলো। স্বপ্ন ছিলো বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হেরে যেতে হয়েছে শিশুটিকে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলো শিশুটি। প্রতি মাসে নিয়ম করে রক্ত নিতে হতো। নির্ধারিত সময়ে রক্ত নিতে মায়ের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলো। বাঁচার জন্য রক্ত নিতে এসে জীবনটাই চলে গেলো ওই নিষ্পাপ শিশুটির। ঘাতক বাস কেড়ে নিয়েছে শিশুটির প্রাণ। দুই বছর ধরে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা-মা।

কিন্তু ঘাতক বাস তাকে বাঁচতে দেয়নি। সন্তানের লাশের ভারে ভারী হয়েছে বাবা-মায়ের কাঁধ। চোখের সামনে মৃত্যু হয়েছে সন্তানের। জন্মের তিন বছর পর আরাফাতের থ্যালাসামিয়া রোগ ধরা পড়ে। গত দুই বছর ধরে প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে রক্ত নেয়ার প্রয়োজন হতো তার। এজন্য প্রতি মাসে ঢাকার শান্তি নগরে থ্যালাসামিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রক্ত দেয়ার জন্য আরাফাতকে নিয়ে আসেন তার মা। গতকালও সকালে মা আইরিন আক্তার মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। পথে কাজলা হানিফ ফ্লাইওভার টোলপ্লাজার পাশে নামেন। গুলিস্তান আসার জন্য বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। তখন একটি মিনিবাস পেছন থেকে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। শিশুটির বাবা রাজধানীর ধোলাইখালে একটি দোকানে চাকরি করেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা আইরিন আক্তার বলেন, জন্মের তিন বছর পর আরাফাতের থ্যালাসামিয়া রোগ ধরা পড়ে। এরপর গত দুই বছর ধরে প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হতো। এজন্য প্রতি মাসে ঢাকার শান্তিনগরে থ্যালাসামিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রক্ত দেয়ার জন্য আরাফাতকে নিয়ে আসি। সকালেও তাকে রক্ত দেয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জ থেকে নিয়ে আসি। গুলিস্তান আসার জন্য বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষা করছিলাম। পরে একটি বাস বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালে বাসে উঠার সময় অপর একটি বাস এসে আমার ছেলেকে ধাক্কা দেয়। এতে আমার ছেলে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়।

তিনি আরো বলেন, ছেলেটিকে গ্রামের ৮১নং চর বাউনিয়া বড়কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিলো। তার বাবা রাজধানীর ধোলাইখালে একটি দোকানে চাকরি করেন।

শিশুটির বাবা শরিফ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে মারা যায়। এই ঘটনায় শরিফ মিয়া বাসচালকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আখতার হোসেন বলেন, আরাফাতের বাবা তার ছেলে ও স্ত্রীর জন্য গুলিস্তানে অপেক্ষা করছিলেন। আরাফাতকে নিয়ে শান্তিনগরে থ্যালাসামিয়া ফাউন্ডেশনে যাওয়ার কথা ছিলো আরাফাত ও তার মায়ের। মুন্সীগঞ্জ থেকে এসে বাস থেকে নামার পর কাজলার কাছে টোল প্লাজার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাসের চাপায় আরাফাত গুরুতর আহত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বেলা ১১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয় এবং চালককে গ্রেফতার করা হয়।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ