দেশের প্রথম মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করলো দেশ। মেট্রোরেলের একটি ট্রেন উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত একবার চালাতে ৭৫০ কিলোওয়াট থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে। এজন্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিটিএল) সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) দৈনিক ১৪ মেগাওয়াটের চুক্তি হয়েছে।
আগারগাঁও থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই ওই এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। ডিপিডিসি ও ডেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী জাকির হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সঙ্গে ডিএমসিটিএলের উত্তরা প্রান্তে ৯ ও আগারগাঁও প্রান্তে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি হয়েছে।
তিনি জানান, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত একবার চালাতে বিদ্যুৎ খরচ হবে ৭৫০ কিলোওয়াট থেকে ১ মেগাওয়াট। এটা নির্ভর করবে ট্রেনের গতি ও যাত্রী সংখ্যার ওপর।
ডেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ডেসকোর উত্তরা ও টঙ্গীর উপকেন্দ্র থেকে দুটি ১৩২ কেভি লাইনের মাধ্যমে দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের নিজস্ব উপকেন্দ্র বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। এ উপকেন্দ্রের বিদ্যুৎ দিয়েই গতকাল বুধবার উদ্বোধন দিনের ট্রেন দুটি চলে। এর মধ্যে একটি খালি ছিল, অন্যটিতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২২০ জন যাত্রী ছিলেন। এ দুটি ট্রেন চালাতে গতকাল ২ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
প্রাক্কলন অনুযায়ী, মেট্রোরেল পুরোদমে চালু হলে মোট ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। ডেসকো ও ডিপিডিসি আলাদাভাবে ৩৫ মেগাওয়াট করে সরবরাহ করবে।
জানা গেছে, কোনো কারণে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটলে বা গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না গেলে, বিশেষ পরিস্থিতিতে মেট্রোরেলের এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। সংকটকালীন এ বিদ্যুৎ দিয়ে মেট্রোরেলকে নিকটবর্তী স্টেশনে নিয়ে আসা হবে। মেট্রোরেলে বিদ্যুতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। ডেসকো, ডিপিডিসি ও পিজিসিবি সমন্বিতভাবে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তদারকির কাজ করছে যৌথভাবে জাপানের মারুবেনি করপোরেশন ও ভারতের এলঅ্যান্ডটি (লারসেন অ্যান্ড টারবো)।
এদিকে মতিঝিলের মেট্রোরেলের জন্য নিজস্ব ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এটি নির্মাণ হলে ডিপিডিসির মানিকনগর উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে।’ মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত চালু হলেই ডিপিডিসির বিদ্যুতের দরকার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা অগ্রাধিকারমূলক একটি প্রকল্প। এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো সমস্যাই হবে না।
ডিএমসিটিএলের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে দৈনিক ১০টি ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২টি ট্রেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। যাত্রী সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে দিনে কয়টি ট্রেন চলবে।
এমআরটি লাইন-৬-এর আওতায় উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার রেলপথের আগারগাঁও থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার পথ চালু হয়েছে। এ পথে রয়েছে ৯টি স্টেশন। যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হবে ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও ১২ কিলোমিটার অংশের দুটি স্টেশন অর্থাৎ উত্তরা থেকে আগারগাঁও আসা-যাওয়া করবে। যাত্রীর চাহিদা ও ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া বিবেচনায় তিন মাস পর অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

