জাতীয় গ্রিডে রামপালের বিদ্যুৎ

আরো পড়ুন

বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। পরিবেশ-সংক্রান্ত নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে।

শনিবার রাতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।

২০২৩ সালের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরো ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির এক যুগ পরে হলেও, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসা শুরু হওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহল।

এদিকে শীতের আগে রাজধানীতে এক হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়। এতে লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়ে মহানগরীর বাসিন্দারা।

তবে ১৫ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর পায়রায় কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ঢাকায় বিদ্যুৎ আসা শুরু করে। সেখান থেকে রাজধানীতে আসবে ৬০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ।

এবার রামপাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আরো ৪০০ মেগাওয়াট যোগ হওয়ায় আপাতত রাজধানীকে ঘিরে আর বিদ্যুতের সমস্যা থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৬০ মেগাওয়াট গোপালগঞ্জের আমিন বাজার হয়ে ঢাকার জাতীয় গ্রিডে এবং ২০০ মেগাওয়াট খুলনা-বাগেরহাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ৭৯.৩৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াটের কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২৩ সালের জুন মাসে জাতীয় গ্রিডে আরো বিদ্যুৎ আসবে।

রামপালের বিদ্যুতে স্থানীয়দের উপকার হবে জানিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুফল রামপাল ও বাগেরহাটবাসী পেতে শুরু করেছে। এই কেন্দ্রের ফলে এলাকার মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও বিপুল পরিমাণ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, ধীরে ধীরে মেশিনের কার্যক্রম বাড়াচ্ছি, আমাদের দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ হবে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ একরাম উল্লাহ বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি। পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে সবধরণের কারিগরি কাজ করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।

রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী কৈ-গর্দ্দাশকাঠি মৌজায় এক হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই শুরু হয় জমি ভরাট ও সড়ক নির্মাণের কাজ। প্রায় ৯ বছর বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে চলতি বছরের ১১ জুলাই বয়লার স্টিম ব্লোয়িং স্থাপন করা হয়। এক মাস পরে ১৪ আগস্ট টারবাইন-এ স্টিম ডাম্পিং এবং এক দিন পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ (ট্রান্সমিশন) শুরু করা হয়।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ