দেশে এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদন শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
তবে মাঠের তথ্য বলছে, অন্যবারের চেয়ে এখন পর্যন্ত ফলন বেশি। সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় তিন টন। প্রকারভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা মণে। এটা এখন পর্যন্ত আমন ধানের সর্বোচ্চ দাম। আর ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম বলেন, আমন ধানের ফলন এবার ভালো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎপাদন ভালো হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধানের দামও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম এবং পাশাপাশি ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও ধানের দাম বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের তথ্যমতে, সারাদেশে এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ লাখ ৬ হাজার হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৯ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর জমির। ধান কাটার হার ৮০ শতাংশের বেশি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে ২ দশমিক ৯৮ টন। এসব জমিতে আমন উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪২ হাজার টন।
ধানের দাম বেশি হওয়ায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় এবার মেশিন দিয়ে পানি সেচে আমন ধানের আবাদ করতে হয়েছে। তাই খরচও হয়েছে বেশি। তবে ফলন খারাপ হয়নি, ভালোই হয়েছে। ধানের দাম ৪৮ কেজি মণে ১৬০০ থেকে ১৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য বছর ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণে বিক্রি হয়।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কৃষক মোস্তফা বলেন, আমাদের এলাকায় আমন ধান মাড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধানের ফলন ভালোই হয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ দরে। শুরুর দিকে ছিল ১৪২০ টাকা। অন্যান্য বছর ধানের দাম থাকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা। এত বেশি দামে আগে কখনও আমন ধান বিক্রি হয়নি।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হরশি গ্রামের কৃষক হিমল কবির বলেন, বৃষ্টি-বাদল না হওয়ায় আমরা কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ধান তুলতে পেরেছি। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে আবাদে এবার খরচও বেশি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শামছুল আলম বলেন, এবার প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ করে আমন ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। নতুন আমন ধান বিক্রি করে তাদের কিছু লাভ হচ্ছে।
যশোর সদর উপজেলার কৃষক আযূব হোসেন এবং শিমুল হোসেনের মতে ধানের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় খরচ বেশি ছিল। তাছাড়া ডিজেল, সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম এবং কৃষি শ্রমিকের দাম বেশি থাকায় অনেক বেশি খরচ হয়েছে। ওই এলাকায় চিকন ধান মণ প্রতি ১৪০০-১৫০০ টাকা, মাঝারি ১৩০০-১৩৫০ টাকা এবং মোটা তথা স্বর্ণা ১২০০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মতিউজ্জামান জানান, ধান ও চাল মোটা, চিকন, শুকনো-ভেজা স্থান ভেদে দামের তারতম্য হয়। তার পরও ধানের দাম গড়ে ১০৫০ থেকে ১১৫০ টাকা মণ বিক্রি করছে কৃষক।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, এখনো ময়মনসিংহে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে এ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক এখনো মিলারদের কাছে যাচ্ছে না। মিলারদের সাথে ধান ও চাউল সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি শুরু হবে।

