সরকারি প্রকল্পের ঘর বিক্রি লাখ টাকায়

আরো পড়ুন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া ৭টি ঘর বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘর কিনে নেয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। ঘরগুলো উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে।

প্রকল্পের আওতায় জনপ্রতি ২ শতক জমি ও প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারের খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বরাদ্দপ্রাপ্তরা এ ঘর বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় ভুল মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। যাতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে না পারেন। এ ছাড়া ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নেও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা অনিয়ম করেছেন। এ কারণে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা ঘর বিক্রির সাহস পেয়েছেন।

গত রোববার দক্ষিণপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ঘর বিক্রেতা, ক্রেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে। প্রকল্পের ১৪ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছিলেন আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই ঘর এক লাখ টাকায় কিনে বসবাস করছেন শিরিনা বেগম ও তার পরিবার।

১০ নম্বর ঘর বরাদ্দ হয় বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী ছারা খাতুনের নামে। ৮০ হাজার টাকায় তা কিনে বসবাস করছেন আনু ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম।

৮ নম্বর ঘর বরাদ্দ পান গ্রামের রশিদ দম্পতি। এ ঘরে বসবাস করছেন জাহের ও তার পরিবার। ৯ নম্বর ঘর বরাদ্দ পান ঠাণ্ডু দম্পতি। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন পিঞ্জিরা খাতুন ও তার সন্তানরা।

১৩ নম্বর ঘর বরাদ্দ পান রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফুলমালা। এক লাখ টাকায় কিনেছেন নাজমুল ও তার পরিবার। ১৬ নম্বর ঘর বরাদ্দ পান বিধবা রেশমা খাতুন। এ ঘর এক লাখ টাকায় কিনেছেন হাফিজুল ও তার স্ত্রী নাছিমা খাতুন।

এ ছাড়া ১৭ নম্বর ঘর জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের কাছে থেকে ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় কিনে হালিমা বেগম ও তার পরিবার বসবাস করছেন।

এসব ঘরের ক্রেতারা বলেন, তারাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বরাদ্দ পাননি। পরে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির কাছে থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘর কিনে নিয়েছেন।

১৪ নম্বর ঘর বরাদ্দ পাওয়া আব্দুস সালামের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘর বিক্রির একটি টাকাও আমরা পাইনি। এ টাকা নিয়েছেন ডিজিটাল ভিশন বিদ্যানিকেতন কেজি স্কুলের মালিক জুয়েল আহম্মেদ।

তবে জুয়েল আহম্মেদ বলেন, একটি টাকাও আমি নিইনি। তবে একটি ঘর বিক্রির সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তালিকা প্রণয়ন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি শুধু তালিকা অনুয়ায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন। তাই এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান বলেন, ঘর বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়নি। ভালো করে যাচাই-বাছাই করেই ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ইউএনও সাদিয়া আফরিন বলেন, যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে কেবল তারাই সেখানে বসবাস করতে পারবেন। বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। এটি অপরাধ।

সাদিয়া আফরিন বলেন, বিক্রির খবর পেয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ