ইভিএম প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব কাল

আরো পড়ুন

ইভিএম প্রকল্প নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আবারো টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠক থেকে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিভিন্ন খাতের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। আগামী রবিবার সংশোধিত প্রকল্প ডিপিপি আকারে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া না হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আলমগীর।

গত ১৯ অক্টোবর ‘নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় ইসি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করার লক্ষ্যে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি নেয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এতে সিসি ক্যামেরা ভাড়া বাবদ ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এছাড়া ইভিএম পরিবহনে গাড়ি কেনা বাবদ বিপুল অঙ্কের ব্যয় ধরা হয়।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা এবং দেশে মন্দার আশঙ্কার মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অথর্নীতি বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দলগুলোর বড় অংশও ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আজ আবারও বৈঠকে বসছে ইভিএম-সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটি। এ কমিটিতে বুয়েটের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। বৈঠক থেকে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিভিন্ন খাতের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে পর্যালোচনা করে সবার স্বাক্ষরসহ সংশোধিত প্রকল্পটি পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আমাদের একটা টেকনিক্যাল কমিটি আছে। সেই কমিটিতে বুয়েটের শিক্ষকরা রয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রয়েছেন। বৈঠকের পর কারিগরি কমিটির সব সদস্যের স্বাক্ষরসহ প্রকল্প প্রস্তাবটি নতুন করে পাঠানো হবে।

পরিকল্পনা কমিশন কী ধরনের সংশোধনের কথা বলছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাত কমেনি। সব কম্পোনেন্ট রয়ে গেছে। তবে যোগ-বিয়োগে কিছু কমছে।

নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, আমি যেটা শুনেছি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে আবার আমাদের কিছু গাইডলাইন দিয়ে ওটা ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাতে আমি যতটুকু বুঝেছি, ব্যয়টা একটু মাত্রার মধ্যে এনে দিতে বলেছে এবং কোথায় কোথায় ব্যয়টা একটু সংকোচন হবে, সেটার একটা গাইডলাইন দিয়েছেন।

এদিকে জানুয়ারির মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প পাস না হলে দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আলমগীর। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে সাপ্লাই অর্ডার দিতে হবে। জানুয়ারির মধ্যে যদি নাই পাই তাহলে এলসি খোলা, সেগুলো দেশে আনা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, ফিল্ডে পাঠানো অনেক কাজ রয়ে গেছে।

বাজেট কমানোর বিষয়ে ইসি কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে যে ইচ্ছা ছিল, সেটা হলো সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করা। বর্তমানে যে ইভিএম আছে সেটা দিয়ে ৭০ থেকে ৭৫টি আসনে ভোট করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে এগুলো দ্বাদশ নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে।

সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, প্রজেক্ট অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। পরিকল্পনা কমিশন বা অর্থ মন্ত্রণালয় কতটুকু টাকা দিতে পারবে তার ওপরে নির্ভর করে।

ইভিএমের বিষয়ে যখন আলোচনা করা হয়েছে তখন দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল না দাবি করে কমিশনার আলমগীর বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ হওয়ার কারণে শেষের দিকে দেশের যে আর্থিক সমস্যাগুলো দেখতে পাচ্ছি, এগুলো সাম্প্রতিককালের একেবারে দু-এক মাসের ব্যাপার। আমরা এটা পাঠানোর পরই বুঝতে পেরেছি যে, কিছুটা অর্থনৈতিক সংকট আছে দেশে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা কতটুকু আছে, সেটা বলতে পারবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সেটা আমরা বলতে পারব না। আমরা আমাদের চাহিদার কথা বলেছি। ওনারা কতটুকু দিতে পারবে সেটা ওনাদের ব্যাপার।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ