সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালি গ্রামের লড়াকু মোরগ কালাপাহাড়, রোবট, টাইগাদের লড়াই দেখলো যশোরবাসী। বহু বছর পরে শনিবার যশোর টাউন হল মাঠে আসল মোরগ লড়াই দেখে মুগ্ধ হয় দর্শনার্থীরা।
রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের জন্ম ও মৃত্যু দিন উপলক্ষে যশোর ইনস্টিটিউট আয়োজিত সাত দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের অংশ হিসেবে এ মোরগ লড়াই ছিল উপভোগ্য।
যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মী প্রণব দাস বলেন, রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের জন্মদিন ও মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো সপ্তাহব্যাপী স্মরণ উৎসব হচ্ছে। এ উৎসবে দেখলাম গ্রামীণ মোরগ লড়াই। আমরা প্রতিবছর এমন খেলা দেখতে চাই।
তিনি জানান, দর্শকদের আগ্রহ আর ভালোবাসায় এখনো বেশ কিছু মানুষ এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মোরগ লড়াই খেলা ধরে রাখতে প্রশাসন ও আয়োজকদের উদ্যোগ নিতে হবে।
মোরগ লড়াই দেখে আপ্লুত কলকাতা থেকে আসা রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের কনিষ্ঠতম সদস্য কবি ও সাহিত্যিক ডা. গৌরব দীপ ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, এই খেলা আমরা কিন্তু এখন দেখতে পাই না। বহুদিন আগে খেলাটি দেখেছি। সেটা আমার স্মৃতিতে নেই। আজ দেখে অনেক ভালো লাগলো।
যশোর ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, বহু বছর যশোরবাসী মোরগের লড়াই দেখেনি। তাই মোরগ লড়াই ছিল বাড়তি প্রাপ্তি। লড়াইয়ে ভেটখালি গ্রামের ১০টি লড়াকু মোরগ অংশ নেয়। এরমধ্যে কালাপাহাড় ও রোবট লাভ করে বিজয় মুকুট। এ লড়াই যত না ছিল শক্তির প্রদর্শন, তার চেয়ে বেশি ছিল মনোরঞ্জন।
উপস্থিত দর্শকদের করতালি জানান দিচ্ছিল মোরগ লড়াই এর আবেদন আজও হারিয়ে যায়নি। ভেটখালির হাজারো পরিবার লড়ায়ের জন্য মোরগ তৈরি করে। সারা দেশে বিনোদন দিচ্ছে তারা। সুস্থ এ বিনোদনের ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

