ভারতের কেরালা প্রদেশে ভ্রান্ত ধারণায় দুই নারীকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে কথিত নরবলি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) কেরালা পুলিশ দুই নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক সমৃদ্ধির আশায় কুসংস্কার থেকে কয়েক মাস আগে ওই দুই নারীকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশ জানায়, হত্যার আগে দুই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। গ্রেফতার করা তিন ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই নারীর নাম পদ্মা ও রোজলি। পদ্মা (৫২) কেরালা সীমান্ত লাগোয়া তামিলনাড়ু রাজ্যের বাসিন্দা। তিনি কোচিতে থাকতেন। রোজলি (৪৯) কেরালার ত্রিশুর জেলার বাসিন্দা। তিনি থাকতেন কালাডি শহরে। পদ্মার ছেলে গত মাসে থানায় নিখোঁজ হওয়ার একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন ভগবল সিং, তার স্ত্রী লায়লা ও মোহাম্মদ শাফি। এর মধ্যে ভগবল সিং হলেন বৈদ্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে ‘ভণ্ড বাবা’ বলে বর্ণনা করছে। ইদুক্কি জেলার মোহাম্মদ শাফি ভগবলকে ‘গুরু’ মানতেন। তারা তিনজন মিলে ওই দুই নারীকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করেন।
কোচির পুলিশ কমিশনার সি এইচ নাগারজু জানান, চার মাস আগে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। মানুষকে বলি দিলে আর্থিক সমৃদ্ধি হবে, এমন একটি কুসংস্কার থেকে তাদের হত্যা করা হয়। গতকাল পাথানামথিট্টা জেলায় ভগবল সিংয়ের বাড়ির পেছনে মাটি খুঁড়ে দুই নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানান, এ হত্যাকাণ্ডে বিবেকবান মানুষ হতবাক। কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে এভাবে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা কেরালার মতো একটি রাজ্যে কল্পনা করা যায় না।
জাগো/আরএইচএম

