রোদ্রে পুড়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে গর্ভধারিনী মা’কে খুজতে দেয়ালে দেয়ালে মায়ের সন্ধান চেয়ে পোস্টার লাগাচ্ছেন যশোরের শার্শা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আব্দুর সাত্তার। তিনি ওই গ্রামের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন বন্দর শ্রমিক।
যশোর শহরের হাসপাতাল মোড়ে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে দেখা আব্দুর সাত্তারকে।
আব্দুর সাত্তার জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে তার গর্ভধারিনী মা আমেনা খাতুন (৭৫) কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকেই নিখোজ তার মা। আব্দুর সাত্তারের বৃদ্ধ মা মানসিকভাবেও অসুস্থ ছিলেন। আত্মীয় স্বজনদের নিকট খোজাখুজি করে মায়ের কোন সন্ধান না পেয়ে অবশেষে মা’কে খুজতে নিজেই পথে নেমেছেন তিনি। অসহায় দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়া সত্ত্বেও কাজকর্ম ফেলে সাত বছরের ছেলেকে সাথে নিয়ে পথে পথে পোস্টার লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন আব্দুর সাত্তার। মা’কে খুজে পেতে প্রশাসনসহ সর্বসাধারণের সহোযোগিতা চেয়েছেন আব্দুর সাত্তার।
আব্দুর সাত্তার বলেন, আমরা পাঁচ ভাই বোন। গত ২০ তারিখে মা হারিয়ে যাবার পর, বাকি ভাই বোনেরা দু-একদিন খোজাখুজি করে আর খোজ করেননি। আমি কাজকর্ম ফেলে মায়ের ছবিসহ পোস্টার ছাপিয়ে লাগিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি আমার ছেলেকে সাথে নিয়ে পুরো জেলা ঘুরে ঘুরে পোস্টার লাগাবো।
তিনি আরও বলেন, আমার মা হারিয়ে যাবার পর একটি নিখোজ ডায়েরি করেছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো আমি আমার মা’কে খুঁজতে সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমি আমার মা’কে খুজে পেতে চাই।’
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ভুইয়া জানান, এ বিষয়ে একটি নিখোজ ডায়েরি হয়েছে। পুলিশ কাজ করছে।

