মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা বর্তমান সরকার করেছে বলে দলটির নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি তাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শও দেন।
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, একটা স্বচ্ছ নির্বাচনের বিষয় সামনে আসলেই বিএনপি শঙ্কিত হয়ে যায়।
এর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, চুরি করে, ভোট চুরি করে ক্ষমতায় যাওয়া আর ওই যে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার লিস্টে রেখে ভোট করা- এই সুযোগটা পাচ্ছে না বলেই বোধহয় নির্বাচন নিয়ে তাদের এত শঙ্কা আছে।
নির্বাচন কমিশন এখন আইনের মাধ্যমে গঠিত হচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার যাতে নিশ্চিত হয় সেই ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার করেছে।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রহসনের কথা তুলে ধরতে গিয়ে সরকারপ্রধান ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসলেও জনগণ সেই নির্বাচন মেনে না নেওয়ায় ৩০ মার্চ চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের মুখ থেকে এখন নির্বাচন নিয়ে কথা শোনা…এটা তো আসলে জানি না এটা কতটুকু মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। কেউ যদি তার অধিকার কেড়ে নেয় তাহলে তারা কিন্তু আন্দোলন করে সেটা আদায় করে।”
বর্তমানে নির্বাচন যতটুকু স্বচ্ছতা পেয়েছে তা অতীতে ছিল না জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায় তারা কারা?
২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার একটা প্রশ্নের উত্তর কি কেউ দিতে পারবেন? ৩০০ সিট আছে। একটা রাজনৈতিক দল যদি সেখানে সাড়ে সাতশ জনকে মনোনয়ন দেয় এবং নিজেরাই মারামারি করেন ও এর মাঝখানে সরে পড়েন। তবে সেই নির্বাচনটা তো আর নির্বাচন হয় না।
‘জনগণের ভোট চুরি করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় কোনদিনই আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই এসেছে।’
নিউইয়র্ক সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্ধুত্ব; বাংলাদেশের জন্য বন্ধুত্ব নিয়ে ফিরছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে উন্নয়নের বিস্ময় এটাই সবাই বলতে চেষ্টা করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা শান্তি চাই; যুদ্ধ চাই না, সংঘাত চাই না। এই বার্তাটা আমি সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি সেটাই হচ্ছে আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় কথা এবং সকলেই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং আমাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।’
জাগো/আরএইচএম

