এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করেছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। অথচ পরীক্ষা গ্রহণের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রে মোবাইল ফোনই নিষিদ্ধ। পরীক্ষার কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ এবং ফেসবুক লাইভ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তো কী হয়েছে!’ দুই ঘণ্টা পর তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভটি মুছে ফেলেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারার সালেহা ইমারত গার্লস একাডেমি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান এমপি এনামুল হক। তখন তার ফেসবুক আইডি থেকে এমপির ওই পরিদর্শন লাইভ করা হয়। ভিডিওতে পরিদর্শনের সময় এমপি এনামুলের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানমকেও দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ইউএনও সাইদা খানম।
এনিয়ে সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। তার ওই লাইভে দেখা যায়, কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে রীতিমতো পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাও বলছেন এমপি এনামুল হক। কারো কারো প্রশ্নপত্র নিয়েও দেখছেন। এ সময় অনেক পরীক্ষার্থীকেই লেখা বন্ধ করে দিয়ে এমপির দিকে তাকিয়ে থাকতেও দেখা গেছে।
এমপি এনামুল হকের ফেসবুক আইডিতে দুই ঘণ্টা ছিল লাইভের ভিডিওটি। পরে সমালোচনার মুখে তা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে তার পরিদর্শনের কিছু ছবি আইডিতে আছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে লাইভ তো দূরের কথা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করারই সুযোগ নেই। এমপির মোবাইল থেকে লাইভ করা হয়েছে কি না তা তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন।
পরীক্ষার কেন্দ্রে ফেসবুক লাইভ করার বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি এনামুল হক বলেন, তো কী হয়েছে? মন্ত্রী-সচিবেরা পরিদর্শনের সময় মোবাইল নিয়ে যান না? তারা লাইভ দেন না? এরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, একমাত্র কেন্দ্র সচিব পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি ফিচার ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এমন স্মার্টফোনও ব্যবহার করতে পারবেন না। তিনি ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। মন্ত্রী পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলেও তিনি গাড়িতে ফোন রেখে যান।
এর আগে গত ৭ আগস্ট বাগমারায় করোনার গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় এমপি এনামুল হক এক বৃদ্ধের শরীরে নিজেই টিকা পুশ করেছিলেন। একজন প্রকৌশলী হয়ে চিকিৎসকের মতো টিকা পুশ করার ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

