শেয়ারবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরোর বাবা আবুল কালাম মাতব্বর ও তার সহযোগী এবং ডিআইটি কো-অপারেটিভ লিমিটেডকে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিডিকম অনলাইন লিমিটেড এবং ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে আগস্ট মাসে বিএসইসি তাদের এ জরিমানা করেছে।
বিএসইসির কমিশনার আব্দুল হালিম জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির দায়ে আবুল কালাম মাতব্বর ও তার সহযোগীদের তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিডিকমের শেয়ার কারসাজির দায়ে ডিআইটি কো-অপারেটিভ লিমিটেড ও তাদের সহযোগীদের ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিএসইসির নির্দেশে গত বছরের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে (১৫ দিন) ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি তদন্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পায় ডিএসই।
ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিএসইসি আবুল কালাম মাতব্বর ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে কারসাজির বিষয়ে জানতে শুনানিতে আহবান করে। তাদের পক্ষে গত ৫ জুন শুনানিতে অংশ নিয়ে আবুল খায়ের হিরো বক্তব্য দাখিল করেন।
আবুল খায়ের হিরোর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়, কারসাজির অভিযোগ সত্য, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ১৭(ই)(ভি) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন আইন ১৯৯৩-এর ধারা ১৮ লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান পরিপালনে আলোচ্য ব্যর্থতার জন্য, শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থে আবুল কালাম মাতব্বর ও তার সহযোগীদের ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একইভাবে ডিএসই চলতি বছরের ৭ থেকে ১০ মার্চ বিএসইসির নির্দেশে বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পায় ডিএসইর।
এরপর বিএসইসি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আবুল কালাম মাতা এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কারসাজির বিষয়ে জানতে শুনানিতে আহ্বান করে। শুনানিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে আবুল খায়ের হিরো বক্তব্য দাখিল করেন।
আবুল খায়ের হিরোর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়, কারসাজির অভিযোগ সত্য, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৭(ই) ও (ভি) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন আইন ১৯৯৩-এর ধারা ১৮ লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান পরিপালনে আলোচ্য ব্যর্থতার জন্য শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থে ডিআইটি কো-অপারেটিভ লিমিটেড ও তার সহযোগীদের ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উভয় পক্ষ থেকে এই টাকা আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসির ইস্যু করা ব্যাংক ড্রাফট-পে অর্ডারের মাধ্যমে জমা করতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

